কলকাতা: ৬০-৭০ দশকের অন্যতম বিখ্যাত ফুটবলার সুকল্যান ঘোষ দস্তিদারের জীবনাবসান৷ বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর৷ মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলে খেলা এই প্রাক্তন ফুটবলার ভারতীয় দলেরও প্রতিনিধিত্ব করেছেন৷

১৯৬৮ সালে রাজস্থানে খেলে এই স্ট্রাইকার ওই মরশুমের লিগের ১০টি গোল করেছিলেন৷ তার পরের বছর চলে আসেন মোহনবাগানে। ১৯৭৩ সালে তিনি ছিলেন মোহনবাগান দলের অধিনায়ক৷ ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত টানা মোহনবাগানে খেলেন তিনি৷ এর পরের বছর ১৯৭৫ সালে তিনি ইস্টবেঙ্গলে চলে যান এবং সেখানে এক বছর খেলেন৷

৬০-৭০ দশকে এই স্ট্রাইকার সেই সময় বিভিন্ন ম্যাচে গোলদাতা ছিলেন৷ মোহনবাগানে হয়ে ৭২টি গোল করেন এই স্ট্রাইকার। ৭২ সালে হাবিবের নেতৃত্বে ভারতের হয়ে প্ৰি-অলিম্পিকে মায়ানমারের বিরুদ্ধে খেলেন সুকল্যাণবাবু। ৩ ম্যাচে ২টি গোল ছিল তাঁর।

তবে ১৯৭৩ সালে তাঁকে ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধে ময়দানে। সেই বছর দুই প্রধানের ম্যাচে ইষ্টবেঙ্গলের সুভাষ ভৌমিকের সঙ্গে সংঘর্ষে মাঠ ছাড়েন মোহনবাগানের শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় ফলে মেজাজ হারান সুকল্যাণ ঘোষ দস্তিদার। ওই ডার্বি ম্যাচেই রেফারি বিশ্বনাথ দত্তকে ঘুষি মারেন। এই ঘটনা বাদ দিলে মাঠ ও মাঠের বাইরে অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন সুকল্যাণ৷

তাঁর সঙ্গে খেলা শ্যাম থাপা জানান, ‘সুকল্যাণ একজন সুপুরুষ ছিল৷ মাঠ ও মাঠের বাইরে অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিল৷ ও একজন দারুণ শুটার ছিল৷ মোহনবাগানে ও দাপিয়ে খেলেছে৷ ওর প্রয়াণে আমি অত্যন্ত মর্মাহত৷’ সুকল্যাণবাবুর এক মেয়ে বিদেশে থাকেন৷ তিনি ফেরার পর অত্যষ্টি সম্পন্ন হবে৷ তবে পরিবারের সম্মতি পেলে অত্যষ্টির আগে সুকল্যাণবাবুর মরদেহ মোহনবাগান তাঁবুতে নিয়ে যেতে চান শ্যাম থাপারা৷