স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া : স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতা চলাকালীন খেলার মাঠে চোট পেয়ে মৃত্যু হল এক প্রতিশ্রুতিবান ফুটবলারের। মৃতের নাম অভিজিৎ দে (১৭)৷ সে বাঁকুড়ার জয়পুর ব্লকের আশুরালি হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র।

খবরে প্রকাশ, সোমবার জয়পুর হাই স্কুল মাঠে আশুরালি হাই স্কুলের সঙ্গে মাগুরা হাই স্কুলে ফুটবল প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের খেলা ছিল। খেলা চলাকালীন গোলকিপারের দায়িত্বে থাকা অভিজিৎ গুরুতর চোট পান। উপস্থিত খেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ও আয়োজকরা তাকে দ্রুততার সঙ্গে জয়পুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভরতি করেন। পরে তাকে সেখান থেকে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতাল ও রাতেই বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন রাতেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় জয়পুর ব্লক এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন : হাতের কাটা দাগুলির নিজস্ব গল্প রয়েছে, আত্মহত্যা প্রতিরোধ নিয়ে বিশেষ বার্তা স্বস্তিকার

আশুরাল হাই স্কুলের ফুটবলের সদস্য ও ঘটনার সময় মাঠে উপস্থিত রাহুল মণ্ডল বলেন, খেলা চলাকালীন প্রতিপক্ষ দল কর্ণারে গোল মারে। গোলকিপারের দায়িত্বে থাকা তাদের দলের অভিজিৎ সেই বল ধরে ফেলে। প্রতিপক্ষ দলের আঘাতের জেরেই তার ‘প্রিয় বন্ধু’র মৃত্যু হয়েছে বলেই সে দাবি করে। ঘটনার সময় খেলার মাঠে উপস্থিত সব্যসাচী খাঁ বলেন, দ্বিতীয়ার্ধে খেলাচলাকালীন বিপক্ষের স্ট্রাকারের সাথে আমাদের গোলকিপার অভিজিৎ দত্তের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তখনই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ও মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ওখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

এলাকায় ‘ভালো ছেলে’ যথেষ্ট মেধাবী হিসেবে পরিচিত অভিজিৎ দে ছোটো থেকেই ভালো ফুটবল খেলতো। প্রতিবেশী লায়লা বিবি বলেন, খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। এই ধরণের ঘটনা কোন দিন ঘটবে ভাবতেই পারিনি। মৃত ফুটবলারের কাকা রাজু দে বলেন, দাদা রাজমিস্ত্রীর কাজ করায় সে ঐ সময় বাড়িতে ছিলনা। আমরা বিকেলে ঘটনার খবর পাই ও তৎক্ষণাৎ তাকে জানাই। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন : কাশ্মীরে হামলার ছক, আইএসআইয়ের সঙ্গে বৈঠকে জঙ্গি সংগঠনগুলি : রিপোর্ট

আশুরালি হাই স্কুলের পরিচালন কমিটির সদস্য ইগরাম জমাদার ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় খেলার মাঠে আমি উপস্থিত ছিলামনা। জয়পুর মাঠে আমাদের আশুরালি হাই স্কুলের সঙ্গে মাগুরা হাই স্কুলের খেলা ছিল। প্রথম পর্যায়ে ১-০ গোলে মাগুরা হাই স্কুল এগিয়ে যায়। পরে সেই গোল আমাদের ছেলেরা শোধ করে আরো একটা গোল দেয়। পরে প্রতিপক্ষের গোল ধরার সময় আমাদের স্কুলের গোলকিপার অভিজিৎ দে কোনভাবে আঘাত পায়। আসল ঘটনা কি হয়েছিল প্রত্যক্ষদর্শীরা বলতে পারবেন বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে অভিজিৎ দের সুচিকিৎসার ব্যাপারে ব্লক ও জেলা প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তবুও দুর্ভাগ্য তাকে বাঁচানো যায়নি৷

ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে যান এলাকার বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা। প্রতিভাবান এই ছাত্র-ফুটবলারের মৃত্যুর খবরে শোকাহত শ্যামল সাঁতরা এদিন বলেন, এই ঘটনা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত। খেলা চলাকালিন মাঠে চোট পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর আইসিইউতে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অকালপ্রয়াত ঐ ফুটবলারের দাদাকে অতি দ্রুত সরকারি চাকরীর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ঐ পরিবারের পাশে আমরা সবসময় রয়েছি। একই সঙ্গে রাজ্যস্তরীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় ঐ ছাত্র নির্বাচিত হয়েছিল বলেও তিনি জানান।