মিউনিখ: না, জার্মানির সিগন্যাল ইদুনা পার্কে গোলপোস্টের দু’দিকে এদিন ছিল না জনসমুদ্র কিংবা ইয়েলো ব্রিগেডের ভাইকিং ক্ল্যাপ। দু’মাসেরও বেশি সময় পর প্রিয় দল মাঠে নামলেও হাকিমি, হ্যালান্ডদের জন্য ছিল না কোনও এলাহি আয়োজন। এক ভিন্ন আবহে ফুটবল ফিরল ইউরোপে, বলা ভালো বিশ্বে।

যেখানে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের স্টেডিয়ামে চেনা চাকচিক্য-উচ্ছ্বাসের ছবিটাই উধাও। প্রথম দেশ হিসেবে করোনা পরবর্তী সময়ে জার্মানির হাত ধরে ফুটবল ফিরল বিশ্বে। গাইডলাইন মেনে ফাঁকা গ্যালারির মাঝেই গড়াল বল। যদিও দর্শকহীন স্টেডিয়ামেও ঝড় তুলল জার্মান জায়ান্ট বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। ডার্বি ম্যাচে শালকেকে ৪-০ গোলে হারিয়ে করোনা পরবর্তী সময় নিজেদের অভিযান শুরু করল ইয়েলো ব্রিগেড। ফাঁকা গ্যালারিতে মাঠে ফুটবলারদের একে অপরের প্রতি সমস্ত নির্দেশ স্পষ্ট কানে আসছিল প্রত্যেকের। পাশাপাশি সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের সমস্ত খুঁটিনাটি গাইডলাইন মেনেই এদিন শালকের মুখোমুখি হয় বরুসিয়া।

জোড়া গোলে এদিন বরুসিয়ার জয়ের নায়ক রাফায়েল গুরেইরো। যদিও দলের হয়ে প্রথম খাতা খোলেন নরওয়ের টিন-এজ সেনসেশন আর্লিং হ্যালান্ড। আরেকটি গোল থোর্গেন হ্যাজার্ডের। জয়ের ফলে লিগ টেবিলে শীর্ষে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান মাত্র একে নিয়ে এল ইয়েলো ব্রিগেড। যদিও এক ম্যাচ বেশি খেলল তাঁরা। একইসঙ্গে বুন্দেশলিগার ইতিহাসে এই নিয়ে ৮০০তম জয় তুলে নিল ডর্টমুন্ড।

২৯ মিনিটে বেলজিয়ান হ্যাজার্ডের ক্রস থেকে মাথা ঠান্ডা রেখে তাঁর পরিচিত ঢং’য়ে বল জালে রাখেন নরওয়ের প্রতিশ্রুতিমান স্ট্রাইকার হ্যালান্ড। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে দলের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফায়েল গুরেইরো। বিরতির আগে দু’গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৪৮ মিনিটে ৩-০ করেন থোর্গেন হ্যাজার্ড। আর ৬৩ মিনিটে বিপক্ষের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে বড় জয় নিশ্চিত করেন গুরেইরো। ম্যাচে তাঁর দ্বিতীয় গোল এটি।

সিগন্যাল ইদুনা পার্কের প্রেস বক্সে এদিন উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকরাও। তবে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনেই প্রেসবক্সে বসেছিলেন তারা। প্রত্যেকের মুখেই ছিল মাস্ক। সবমিলিয়ে ৮০ হাজার দর্শকাসন বিশিষ্ট স্টেডিয়ামে হাজির ছিলেন সর্বসাকুল্যে ৩০০-র মত মানুষ।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প