স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রোজডেল এনআরআই হাউজিং কমপ্লেক্স৷ নিউটাউনের এই আবাসনের গা ঘেঁষে রয়েছে ঝাঁ চকচকে একটি শপিং মল৷ এখানকার আবাসিকদের স্বার্থেই মূলত গড়ে ওঠে ওই শপিং মলটি৷ সেই মলের মাথাতেই রয়েছে আস্ত একটি ফুটবল মাঠ৷

মাঝেমধ্যেই রাতবিরেতে আবাসিকরা দেখতে পান সেখানে পুরোদমে চলছে খেলা৷ এমনকী করোনা পরিস্থিতিতেও ওই মাঠে নিয়মিত প্র্যাকটিস চলেছে৷ আর তা নিয়েই অসন্তোষ ছড়িয়েছে আবাসিকদের মধ্যে৷ তাঁদের অনুমতি ছাড়াই ওই ফুটবল গ্রাউন্ড গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রোজডেল গার্ডেন অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের৷

খবরটি হিন্দিতে পড়তে-  न्यूटाउनः रूफटाॅप पर बना फुटबाॅल मैदान लोगों के लिए बना मुसीबत का सबब

বছর ১৪ আগে নিউটাউনের বুকে মাথা তুলেছিল রোজডেল৷ হিডকোর জমিতে প্রবাসীদের জন্যই মূলত গড়ে উঠেছিল এই বহুতলটি৷ শুধুমাত্র বসবাসের জন্যই ওই আবাসন গড়ে তোলা হয়৷ ঠিক হয়, স্রাচি গ্রুপ এবং সঙ্গে হিডকো যৌথভাবে ৬১৪টি রেসিন্ডেন্সিয়াল ইউনিট করবে৷

ওই মাঠে খেলেছেন বাইচুং ভুটিয়াও

তার বেশিরভাগই এনআরআইদের কাছে বিক্রি করা হবে৷ এছাড়া একটি কমার্সিয়াল স্পেস তৈরি হবে৷ আবাসিকদের দাবি, ওই কমন এরিয়া অর্থাৎ ১৮ হাজার স্কোয়ার ফিট-এর একটা কমার্সিয়াল স্পেস আলাদাভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়৷ সেখানেই তৈরি হয় শপিংমল৷

কিন্তু আবাসিকদের কাছে সমস্যাটা অন্য জায়গায়৷ ওই শপিং মলের উপরে গড়ে উঠেছে একটি ফুটবল গ্রাউন্ড৷ আবাসিকদের অভিযোগ, ফুটবল গ্রাউন্ড গড়ে তোলার জন্য তাঁদের থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি৷

ওই গ্রাউন্ড তৈরি হওয়ার পর আবাসনের ভিতরে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে৷ আবাসিকদের অভিযোগ, একেবারে ব্যবসায়িকভাবে তৈরি করা হয়েছে শপিং মলের উপর এই মাঠ। সেখানে রীতিমত টাকা নিয়ে চলছে এই খেলা।

ফলে দিনভর বহিরাগতদের আনাগোনা লেগেই রয়েছে। কোভিড পরিস্থিতিতে যা রীতিমতো উদ্বেগ বাড়িয়েছে রোজডেলের আবাসিকদের৷ শুধু তাই নয়, করোনা আবহে সব সময় বাইরের লোকজন আবাসনের মধ্যে ঢুকে পড়ায় করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাতেও ভুগছেন আবাসিকদের একটি বড় অংশ।

অন্যদিকে, শপিং মলের সামনে অবৈধ পার্কিং নিয়ে ক্ষোভ আবাসিকদের৷ ইতিমধ্যেই এবিষয়ে হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশিস সেনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে৷

ফুটবল গ্রাউন্ডের বিষয়ে হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশিস সেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে কলকাতা 24×7-কে তিনি বলেন, প্রথমে খেলার অনুমতি দেওয়া হলেও আবাসিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরে সেই অনুমতি বাতিল করা হয়েছে৷ শপিং মলের ছাদের ফুটবল প্র্যাকটিস চললে প্রয়োজনে আবাসিকদের থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন দেবাশিস সেন৷

এই বিষয়ে টেকনো সিটি থানার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বলেন, তাঁদের কাছে হিডকোর পক্ষ থেকে কোনও অনুমতি বাতিলের চিঠি আসেনি৷ তবে হিডকোর তরফে অনুমতি বাতিল সংক্রান্ত চিঠি এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। এক্ষেত্রে হিডকো কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট৷

পেশায় পাইলট অভিনব শ এই আবাসনে বসবাস করছেন তিন বছরের বেশি সময় ধরে। ইতিমধ্যেই আদালতে এই অভিযোগ জানিয়ে একটি পিটিশন ফাইল করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে এই ফুটবল মাঠ। কারও অনুমতিও নেওয়া হয়নি। দিন-রাত চলছে খেলা।

একাধিকবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। পরিস্থিতি এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, রাতে বিমান চালিয়ে ভোরে বাড়ি ফিরে ঘুমোতে পারেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ, সময়ে-অসময়ে ফুটবল খেলা চলে ওই মাঠে।

এছাড়া, আর এক বাসিন্দা অরবিন্দ মজুমদার বলেন, এরকম একটি মাঠ তৈরির আগে আবাসিকদের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। তাঁরও আভিযোগ খেলা চলার জন্য রীতিমত অসুবিধায় পড়েছেন আবাসিকরা। একসঙ্গে অনেক বহিরাগত লোকের জমায়েত নিয়েও আপত্তি আছে তাঁর। আবাসনের তরফ থেকে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও ওই মাঠের মালিক তাতে কোনও আমল দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। বারবার এড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি।

এদিকে আবাসিকদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে, বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন ফুটবল গ্রাউন্ডের মালিক রাজীব সিং৷ তাঁর বক্তব্য, কলকাতা 24×7 তথা Nexval-এর সিইও সৌমেন সরকার ওই রোজডেল আবাসনের বাসিন্দা৷

তিনিই একমাত্র এব্যাপারে আপত্তি জানাচ্ছেন দাবি তাঁর৷ যদিও রাজীব সিং-এর দাবি সম্পূর্ন ভুল৷ রোজডেল আবাসনের বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবেই কলকাতা 24×7-এর কাছে এই অভিযোগ জানিয়েছেন৷ সেই অভিযোগপত্র পাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করে এবং খবরটি প্রকাশ করে৷

দেখে নিন আবাসিকদের সেই অভিযোগপত্র:

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।