স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: মুকুল পুত্র শুভ্রাংশুর বিরুদ্ধে এবার মুখ খুললেন খাদ্যমন্ত্রী৷ নাম না করে শুভ্রাংশুর বিরুদ্ধে তোপ দেগে শাসকদলের নেতার মন্তব্য, ‘‘বাবা ছেলের এখন লুকোচুরি খেলা চলছে৷ কয়েকদিনের মধ্যেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে৷’’ শুভ্রাংশুকে আক্রমণের পাশাপাশি তৃণমূল ছেড়ে মুকুল রায় বিজেপিতে যাওয়ায় তৃণমূল দলের কোনও ক্ষতিই হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷ একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিলেন, মুকুল রায় বিজেপিতে চলে গেলেও তৃণমূল দলে থাকা মুকুলপুত্র বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় সম্পর্কে কড়া নজর রয়েছে৷’’

শুক্রবার বর্ধমানের কল্পতরু মাঠে রাইসমিলের একটি উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে আসেন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷ তিনি বলেন, ‘‘এমনও হতে পারে বাবা ছেলে ঠিক করে নিয়েছে একজন বিজেপি করবে আর একজন তৃণমূল করবে৷ মুকুল রায় বিজেপিতে গেছে কোনও রাজনৈতিক কারণে নয়, ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতেই তার বিজেপিতে যোগদান৷’’

এদিন বর্ধমানের কল্পতরু মাঠে বেঙ্গল রাইস মিলে এ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে রাইস প্রো-টেক এক্সপো ২০১৭-র উদ্বোধন করেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷ উদ্বোধনি মঞ্চ থেকে মন্তব্য করেন, ‘‘গোটা রাজ্যে ৭৭টি বিভিন্ন কারণে বন্ধ থাকা রাইস মিলকে চালু করতে ৫ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করছে খাদ্য দফতর৷ আগামী সোমবারই নয়া এই কমিটি গঠন এবং কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে কলকাতার খাদ্য ভবনে৷’’

তিনি জানান, ভারতের অন্যান্য রাজ্যে রাইস মিলের সংখ্যা বাংলার তুলনায় অনেক বেশি। অথচ সমগ্র এশিয়ার মধ্যে ধান উৎপাদনে বাংলা শীর্ষে রয়েছে। ফলে বাংলার বুকেই রাইস মিলের সংখ্যা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উপজাতি এলাকায় রাইস মিল তৈরির জন্য বিশেষ সরকারি সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর পাশাপাশি যে সমস্ত রাইস মিল বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে রয়েছে সেগুলিকে চালু করার জন্য একটি ফাইভ ম্যান কমিটি গঠন করা হচ্ছে৷ আগামী সোমবারই এই কমিটি তৈরি এবং তার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে৷

মন্ত্রী জানান, বন্ধ থাকা রাইসমিলগুলিকে নিয়ে এই কমিটি বৈঠক করবে এবং যত দ্রুত সম্ভব সেগুলি চালু করার উদ্যোগ নেবে। এছাড়াও রাইসমিলগুলির বিভিন্ন সমস্যা এবং তাদের দাবি নিয়ে এরপর থেকে প্রতিমাসে বৈঠক করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ রাজ্যের বর্ধমান সহ মোট ৬টি জেলায় একলক্ষ মেট্রিক টনের গোডাউন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্ধমানের ভাতারে এজন্য ১০ একর জায়গাও চিহ্নিত করা হয়েছে। ধানের পাশাপাশি পাটচাষিদের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার ৭ কোটি চটের বস্তা কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। ২৩টি জেলাতেই এই বস্তা রাইসমিলারদের সরবরাহ করা হবে৷

খাদ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, এফসিআই চাল কেনার ক্ষেত্রে নানাবিধ শর্ত আরোপ করছে। কেউই এফসিআই-কে চাল দিতে চাইছে না। তারা ডোনেশন চাইছে। তাই রাজ্য সরকার এর প্রতিবাদে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এফসিআই-কে চাল দেবার সময় একজন আইএএস বা ডবলু বিসিএস একজন অফিসারকে এফসিআই-তে রাখা হবে। কারা কেন গাড়ি পিছু টাকা চাইছে তা দেখা হবে। তিনি জানান, তিনি নিজেও এফসিআই গোডাউনে হাজির থাকবেন এই অন্যায়ের প্রতিবাদে। এদিন এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়, মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার, সভাধিপতি দেবু টুডু, কাউন্সিলার খোকন দাস, ফেডারেশন অব রাইস মিল এ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি তারসেম সাইনি, রাজ্য সভাপতি সুশীল চৌধুরী, বর্ধমান জেলা সভাপতি আব্দুল মালেক, জেলা সাধারণ সম্পাদক সুব্রত মণ্ডল প্রমুখরাও।

এই মেলায় ১৮টি রাজ্যের ৪২জন প্রতিনিধি ছাড়াও বিদেশ থেকেও রাইস মিলের প্রতিনিধিরা হাজির হয়েছেন। মেলা চলবে ৩দিন। এদিন এই অনুষ্ঠানে বর্ধমান জেলা সহ গোটা রাজ্যে রাইসমিল শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য প্রাক্তন সভাপতি তথা চেয়ারম্যান দেবনাথ মণ্ডলকে লাইফটাইম এচিভমেন্ট পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়। এরই পাশাপাশি এদিন খোদ খাদ্যমন্ত্রীর জন্মদিনও পালিত হয় এই মঞ্চে।