বর্ধমান: চুক্তি মোতাবেক ধান নেওয়ার পর চাল না দেওয়ায় রাজ্যের ১২ টি রাইসমিলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানালেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী। শনিবার বর্ধমানের সংস্কৃতি লোকমঞ্চে ২০১৬-২০১৭ বর্ষে খরিফ মরশুমে ধান কেনা সংক্রান্ত বিশেষ আলোচনা সভায় যোগ দিতে আসেন খাদ্যমন্ত্রী। তার সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, রাজ্যের খাদ্য সচীব অনিল ভার্মা, খাদ্য দফতরের আধিকারিক অরবিন্দ ঘোষ, মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার, বর্ধমান জেলা পরিষদ সভাধিপতি দেবু টুডু, জেলাশাসক ডক্টর সৌমিত্র মোহন, জেলার মুখ্য খাদ্য নিয়ামক দেবমাল্য বসু সহ বিভিন্ন আধিকারিকরা।

জেলার রাইস মিলার এবং সমবায় সমিতিগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এদিন বিস্তারিতভাবে ধান কেনা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক ধান নেওয়ার পর চাল না দেওয়ায় বর্ধমান জেলার ১০টি রাইস মিল এবং উত্তর দিনাজপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ১টি করে রাইস মিলের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। সরকারের প্রাপ্য টাকা না দিলে তাদের সম্পত্তিও ক্রোক করা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার এবছর মোট ৫২ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কিনবে যা মোট উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ। উল্লেখ্য, এদিন এই বৈঠকেই রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুর্নীতগ্রস্থ সমবায়গুলি নিয়ে। সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ না দেখে সমবায়ের ডিরেক্টর, ম্যানেজাররা দালাল নিয়োগ করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন। ধান কেনা কর্মসূচীতে টোকেন নিয়েও ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তুলে এই সমস্ত সমবায়গুলির বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।

তিনি প্রত্যেক বিডিও অফিসে ধান বিক্রি করা চাষীদের তালিকাও টাঙিয়ে দেবার দাবি জানান খাদ্যমন্ত্রীর কাছে। খাদ্যমন্ত্রী স্বপনবাবুর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এদিন জানিয়ে যান দুর্নীতিগ্রস্থ সমবায়গুলির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে। খাদ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রত্যাশিতভাবে সরকারী সহায়ক মূল্যে ধান কিনতে না পারার মূল কারণ চাষীদের তীব্র অনীহা। যার মূল কারণই নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত। চাষীরা খরিফের ধান বাড়িতেই মজুদ করে রেখে দিচ্ছেন আতঙ্কে। কারণ ব্যাংকে গেলে তারা তাদের চাহিদা মত টাকা পাচ্ছেন না।
কতদিনে এই সমস্যার সমাধান হবে তাও তারা বুঝতে পারছেন না। তাই তারা ধান বিক্রি করতে সাহস পাচ্ছেন না। যদিও এদিন বৈঠকে কালনা- কাটোয়া মহকুমার দায়িত্বে থাকা সমবায় দপ্তরের এক অফিসার সমবায়গুলির কাছে সরকারের নতুন নিয়ম না থাকায় সমবায়গুলিকে ধান কেনার কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলায় রাজ্যের খাদ্য সচীব তাকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। এমনকি প্রায় দেড় মাস আগে সমবায়গুলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সত্ত্বেও কেন তারা নিয়মের দোহাই দিচ্ছেন তা নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করারও হুঁশিয়ারি দেন খাদ্য সচিব অনিল ভার্মা। খাদ্যমন্ত্রী এদিন জানান, রাইসমিলারদের দাবি মেনে পরিবহণ খরচ, মাণ্ডি লেবার খরচ প্রভৃতি তারা বাড়িয়ে দিয়েছেন। এজন্য সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বাড়বে প্রায় ৫২ কোটি টাকা। তিনি জানিয়েছেন, রবিবারই বর্ধমান জেলায় রাইসমিল, সমবায় এবং সিএমআর এজেন্সীর মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন হয়ে যাবে। সোমবার থেকে পুরোদমে বর্ধমান জেলায় ধান কেনা শুরু হয়ে যাবে।

 

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.