নয়াদিল্লি: এতদিন এই আতঙ্কটা ছিল না। নো কন্ট্যাক্ট ডেলিভারি নিয়ে দিব্যি চলছিল সুইগি, জোম্যাটো বা অনলাইন খাবার ব্যবসাগুলি। কিন্তু দিন কয়েক আগের ঘটনায় সব হিসেব পালটে গিয়েছে। পিৎজা ডেলেভারি বয় করোনা আক্রান্ত হওয়ায় এবার অনলাইন খাবার ব্যবসায় রাশ টানার কথা ভাবনা চিন্তা করা শুরু হয়েছে।

এরপরেই দিল্লির মানুষদের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। দিল্লি সরকারের তরফ থেকে সেই মেসেজে লেখা দিন কয়েক এখন ঘরে তৈরি খাবার খান। শুধু শুধু কোয়ারেন্টাইনে থাকার চেষ্টা করে কি লাভ। বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করার প্রবণতা কমাতে নিয়ম করে দিয়েছে দিল্লি প্রশাসন। জানানো হয়েছে সংক্রমণ এড়াতে এখন অনলাইন ফুড ডেলিভারি কোম্পানিগুলিকে তাদের ব্যবসায় রাশ টানতে বলা হয়েছে।

এক দিল্লিবাসীর কথায়, তাদের এলাকা কলোনির মত। তাই বাইরে থেকে কে ঢুকছেন আর কে বেরোচ্ছেন, তা দেখা সম্ভব নয়। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই মেসেজ ব্যবস্থা সচেতন করবে প্রচুর মানুষকে। জোম্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তাদের সঙ্গে কাজ করেন প্রায় হাজার পঞ্চাশেক রেস্তোরা। তাদের প্রত্যেককে স্যানিটাইজেশনের ব্যাপারে বোঝানো হয়েছে। নিয়মিত এই নিয়ে কাজ চলছে। তৈরি করা হয়েছে বিশেষ টিম, যারা পরিদর্শন করছে নিয়মিত। ডেলিভারি বয়দের মাস্ক দেওয়া হয়েছে। বুধবারই একগুচ্ছ নতুন নিয়মাবলী প্রকাশ করেছে জোম্যাটো।

দিল্লির এক পিৎজা ডেলিভারি বয়ের শরীরে কোভিড ১৯ পজিটিভ ধরা পড়ার পরে বাকি সহকর্মীরা ছাড়াও ৭২ টি পরিবারকে কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, দিল্লির মালব্য নগরের কাছে ওই ডেলিভারি বয়ের শরীরে সংক্রমণ ধরা পরেছিল। আর তারপরেই ওই ডেলিভারি বয় যে সকল বাড়িতে গিয়েছিল তাদের কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে ওই আক্রান্ত ডেলিভারি বয় দক্ষিণ দিল্লির সাবিত্রি নগরের বাসিন্দা। ২০ দিন আগেই তার শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীকালে শারীরিক পরীক্ষার পরে পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যাওয়াতে সে মালব্য নগর এলাকার যে সকল বাড়িতে গিয়েছিল সেই ৭২ টি বাড়ি খুঁজে বের করা হয়। সেই সকল বাসিন্দাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্ত হয়েছেন হাজারেরও বেশি মানুষ। মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৭। শেষ ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার মানুষের সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩,৩৮৭ জন। সরকারি তথ্য অনুসারেই এই সংখ্যা প্রকাশ পেয়েছে।

একটি রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতে সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছতে পারে করোনা সংক্রমণ। তবে আশঙ্কা কমিয়ে আরও বলা হয়েছে, যে এরপর থেকেই ওই সংক্রমণের গ্রাফ ক্রমশ নিম্নমুখী হবে।

রিপোর্ট বলছে মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও তামিলনাড়ুতে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। এরপরেই রয়েছে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ। বলা হচ্ছে গোটা দেশের ৬০ শতাংশ আক্রান্ত এই পাঁচ রাজ্যেই ছড়িয়ে রয়েছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প