নয়াদিল্লি: লোকসভার পরে বুধবার রাজ্যসভাতেও পাশ হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। এই বিল পাশের পরেই বিরোধিতা করে মুখ খুলেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এই বিল ‘ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন ইমরান খান। এবারে এই বিষয়ে মুখ খুলল ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক। পাকিস্তান নিজের দেশের সংখ্যালঘুদের দিকে নজর দিক বলে কড়া বার্তা দিলেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রভিশ কুমার।

একটি সাংবাদিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি এই বিষয়ে পাক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। নয়াদিল্লির ওই সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি মন্তব্যের উত্তর দিতেই হবে এমন কোনও কথা নেই। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলিয়ে উনি বরং নিজের দেশের দিকে নজর দিন।’

ভারতীয় নাগরিক বিল পাশ হওয়ার পরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। একটি টুইটে ইমরান এও বলেন, ‘ধীরে ধীরে বিজেপি হিন্দুত্ববাদী অ্যাজেন্ডার দিকে এগোচ্ছে নরেন্দ্র মোদী।’

এরপরেই কার্যত ‘হুঁশিয়ারির’ সুরে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রভিশ কুমার বলেন, ‘পাকিস্তানের সংখ্যালঘূদের নিয়ে একটু চিন্তাভাবনা করুন পাক প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে চলতি বছরের ৫ই অগস্ট জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ এবং দুইটি রাজ্যকেই দুইটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। সে বিষয়েও মুখ খুলেছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

গত সোমবার পাশ হয়েছিল লোকসভায়। এর পর বুধবার বিল পেশ হওয়ার পর রাজ্যসভায় দীর্ঘ বিতর্ক হয় শাসক ও বিরোধী দলের সাংসদদের মধ্যে। কংগ্রেস, তৃণমূল, বামদলগুলি এই বিলের বিরোধিতায় সরব হয়। কংগ্রেসের আনন্দ শর্মা, কপিল সিব্বল, পি চিদম্বরমদের বক্তব্য, সংবিধান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এই বিল ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে। ভারতীয় সংবিধানের উপর, ভারতের আত্মার উপর আঘাত।

তার আগে বিল পেশের পরে পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, দেশভাগের জন্য দায়ী কংগ্রেস। সেই প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহের উদ্দেশে কংগ্রেস সাংসদ আনন্দ শর্মা বলেন, ‘আপনি কংগ্রেসের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উপর দেশভাগের দোষ চাপাচ্ছেন, এটা ঠিক নয়। এই ভাবে ইতিহাস বদলানো যায় না। আপনি রাজনীতি করব না বলেও রাজনীতি করছেন।’ কপিল সিব্বলও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, ‘আপনি কোন ইতিহাস পড়েছেন জানি না। আপনি ইতিহাসই পাল্টে ফেলতে চাইছেন. কিন্তু এই ভাবে ইতিহাস বদলানো যায় না।’

বিল পেশের শুরুর দিকেই বিতর্কে অমিত শাহ অবশ্য মুসলিমদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘এ দেশে বসবাসকারী মুসলিমদের আশঙ্কার কোনও কারণ নেই।’ বিলের সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

বিতর্কের সময় তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘হিটলারের মতো ভুয়ো প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। যাঁরা দেশে রয়েছেন তাঁদের অধিকারই সুরক্ষিত নয়। আপনারা আশ্বাস দিলেও আশঙ্কার কারণ আছে। কারণ নোটবন্দির সময়েও আপনি আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও সকলে জানেন কী পরিস্থিতি হয়েছিল।’

বিল পাস হওয়ার পরেই এই বিষয়ে টুইট করেন ইমরান খান। বৃহস্পতিবার তারই জবাব ফিরিয়ে দিল ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক।