হাওড়া: ভরা পৌষেও আকাশের মুখ ভার। কয়েক দিন ধরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলছে রাজ্যজুড়ে। অসময়ের এই বৃষ্টিতে শীতকালীন সবজি চাষে ব্য়াপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। একইভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে আলু চাষও। বাজারে আলুর দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই পাশাপাশি বৃষ্টির জেরে ক্ষতির মুখে পড়েছে হাওড়া জেলার ফুল চাষ। বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে জেলার পান চাষেও।

এর আগে বুলবুল ঝড়ের দাপটে রাজ্যের অন্যান্য কয়েকটি জেলার পাশাপাশি চাষের কাজে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল হাওড়াতেও। আর এবার ভরা পৌষ মাসেও রাজ্যজুড়ে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। অসময়ের এই বৃষ্টির জেরে মাথায় হাত জেলার কৃষকদের। বৃহস্পতিবার থেকে হাওড়ার একাধিক এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে হাওড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ফুল চাষে। বৃষ্টির জেরে ফুলগাছের পাতায় কালো দাগ ধরেছে। এমনকী বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই ফুলের পাপড়ি ঝরতে শুরু করেছে। ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ফুলচাষিরা।

হাওড়ার বাগনানের ঘোড়াঘাটা, দেউলটি-সহ একাধিক এলাকার কয়েকশো বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ হয়। হাওড়া থেকে কলকাতা-সহ অন্য জেলায় ফুল সরবরাহ করা হয়। শীতের শুরু থেকেই হাওড়ায় ফুল চাষে তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু এবার আবহাওয়ার খামখেয়ালীপনায় বিপাকে পড়েছেন ফুলচাষিরা। কখনও বৃষ্টির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চাষের কাজ। কখনও আবার নিম্নচাপ বা অতি বৃষ্টির জেরে শিকেয় উঠছে চাষের কাজ।

গত বছরের শেষ দিকে হঠাৎই গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। বুলবুলের প্রভাবে দুই ২৪ পরগনা-সহ হাওড়া জেলাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয় চাষের কাজে। হাওড়ায় ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুল চাষ। শীত পড়তেই নতুন করে ফুল চাষ শুরু করেছিলেন কৃষকরা। তবে অসময়ের এই বৃষ্টির জেরে আবার নষ্ট হতে চলছে হাওড়ার গোলাপ চাষ। ফুল চাষিরা জানান, বৃষ্টির জেরে গোলাপ গাছের পাতায় কালো রঙের দাগ পড়ছে। ঝরে যাচ্ছে ফুলের পাপড়ি। গাছ গুলি বাঁচানো নিয়েই এখন সংশয়ে চাষিরা। একইভাবে নতুন গোলাপের চারা কীভাবে তৈরি করা যাবে তা নিয়েও সন্দিহান এলাকার কয়েকশো ফুলচাষি। গোলাপ চাষের উপরেই মূলত নির্ভরশীল বাগনান-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বহু কৃষিজীবী। অসময়ের বৃষ্টিতে মাথায় হাত প্রত্যেকেরই। মহাজনের ধার মিটিয়ে ফুল বিক্রি করে কীভাবে লাভের মুখ দেখবেন এখন তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় ভুগছেন এলাকার ফুল চাষিরা।

ফুল চাষের পাশাপাশি হাওড়ার উলুবেড়িয়ার বাসুদেবপুর, তুলসীবেড়িয়া-সহ একাধিক এলাকায় প্রচুর পরিমাণ পান চাষ হয়। পৌষের বৃষ্টিতে এবার পান চাষেও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকার পানচাষিরা। অকাল বৃষ্টিতে ঝরে যাচ্ছে পানের পাতা। বরোজে জল ঢুকেও ক্ষতি হচ্ছে পান চাষে। যদিও বৃষ্টির জল আটকাতে ত্রিপল দিয়ে বরোজ ঢেকে রেখেছেন কৃষকরা। তবুও কোনওভাবে বরোজে জল ঢুকে পানের পাতায় তৈরি হচ্ছে দাগ। স্বভাবতই পান বিক্রি করতে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে এলাকার পানচাষিদের।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।