ওয়াশিংটন: তখন ভোর রাত৷ ঘুম ভেঙে গেল ফ্লোরিডা নিবাসী মেরি উইসুচেনের৷ তাঁর মনে হল রান্না ঘরে কেউ চলেছে৷ কয়েকটা বাসন পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পেলেন৷ তাড়াতাড়ি আলো জ্বেলে সেখান যেতেই- নাহ ভুত দেখেননি মেরি৷ তার বদলে দেখলেন একটা আস্ত কুমির লাফ ঝাঁপ করছে৷ বিরাট হাঁ করে সেটা তেড়ে যাচ্ছে এদিক ওদিক৷ তারই লেজের ঝাপটায় রান্নাঘরে সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে৷

ঘরেই ঢুকেছে কুমির৷ ওর যা হাঁ, তাতে একটা লোককে আস্ত খেয়ে নিতে পারে৷ ভয়ঙ্কর সেই মুহূর্ত৷ কোনরকমে পালিয়ে এলেন মেরি৷ তারপর হইহই কাণ্ড৷ বিবিসি জানাচ্ছে, সেই কুমিরটা ১১ ফুট লম্বা৷ যা ছবি ধরা পড়েছে তাতে বোঝাই গিয়েছে বিরাট রেগে গিয়েছিল কুমিরটা৷ কোথাও বের হওয়ার রাস্তা না পেয়ে রান্না ঘরেই হম্বিতম্বি করছিল৷

আরও পড়ুন : ঈদে বাড়ির টানে…ট্রেন-বাস-ফেরিতে বাদুড়ঝোলা পরিস্থিতি

যদি কুমিরটা রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে বসার ঘরে বা শোয়ার ঘরে ঢুকে পড়ে৷ এটা ভেবেই আতঙ্কে ঠাণ্ডা স্রোত নেমে গিয়েছিল মেরির শরীরে৷ আতঙ্কিত মেরি কোনওরকমে স্থানীয় পুলিশ ও পরিবেশ বিভাগে ফোন করেন৷ এরপরেই শুরু হয় কুমির ধরার অভিযান ও মেরিকে উদ্ধারের পালা৷ ততক্ষণে প্রাণীটা একটা জানালা ভেঙে দিয়েছে৷

বিবিসি জানাচ্ছে, ফ্লোরিডার বিভিন্ন বাড়িতে অনেক সময় কুমির ঢুকে পড়ে৷ গত জুন মাসে কুমিরের আক্রমণে মারা যান একজন মহিলা পুলিশ জানিয়েছে, ওটা একটি পুরুষ কুমির। কাছাকাছি কোন কুমির প্রজনন কেন্দ্র বা চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে এসেছে। পরে সেই ক্ষিপ্ত কুমিরকে বশে আনার জন্য এক শিকারিকে আনা হয়৷ তিনি জাল পেতে কুমির বাবাজিকে পাকড়াও করেন৷

এক ঘণ্টা ধরে চলেছে রুদ্ধশ্বাস কুমির ধরা পর্ব৷ মেরি বুঝতে পারছেন তিনি ভয়ঙ্কর বিপদ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন৷ ফ্লোরিডায় বন্যপ্রাণী আইন খুব কঠোর৷ প্রাণ সংশয় না হলে কেউ প্রাণী হত্যা করতে পারেনা, যে কারণে সেখানে কুমিরের সংখ্যা গত কয়েক বছরে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিবিসি রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০১৮ সালেই আট হাজারের বেশি কুমির মানুষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ফ্লোরিডায় কুমিরের আক্রমণে মাত্র ২২জন মানুষ মারা গেছেন।