স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: অতি সক্রিয় মৌসুমী বায়ু। যার জেরে গত তিন দিন ধরে প্রবল বর্ষনে ভিজছে উত্তরের জেলাগুলি। বৃহস্পতিবার থেকে টানা বৃষ্টির ফলে জলপাইগুড়ি জেলার় প্রায় সব নদীতেই জলস্তর বেড়েছে। বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে তিস্তা সহ একাধিক নদীর জল।

যার ফলে নদী তীরবর্তী অসংরক্ষিত এলাকা গুলিতে লাল এবং সংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সর্তকতা জারি করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। এদিকে ১২ জুলাই অর্থাৎ রবিবার ভারি থেকে অতিভারি ৭০ থেকে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হবে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারের বেশ কিছু অংশে।

উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টিতে দার্জিলিং,কালিম্পং পার্বত্য ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের নদী গুলির জলস্তর অনেকটাই বাড়তে পারে। বেশ কিছু এলাকায় বন্যার পরিস্থিতির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খড়িয়া, নন্দনপুর বোয়ালমারি, পাহাড়পুর, পাতকাটা সহ অন্যান্য এলাকাতেও নদীর জল ঢুকে পড়েছে ।

তিস্তার জল ক্রমশ বাড়তে থাকায় জলবন্দি মানুষদের উদ্ধার করতে রবিবার বিকেলে এন ডি আর এফ কর্মীদের নামানো হয়েছে। এছাড়াও জলপাইগুড়ি শহরের পরেশ মিত্র কলোনিতে সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা জল বন্দি মানুষদের উদ্ধার করতে নেমেছেন। বোটে করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হচ্ছে দুর্গতদের।

শনিবার সকাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে সবচেযে বেশি বৃষ্টি হয়েছে হাসিমারায়। সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ১৮৬ মিমি। ময়নাগুড়িতে বৃষ্টি হয়েছে ১১৬ মিমি। এছাড়া আলিপুরদুয়ারে ১১৫ মিমি, জলপাইগুড়িতে ৯৩ মিমি, বানারহাটে ৬৩ মিমি, শিলিগুড়িতে ৪৪ দশমিক ৬০ মিমি, তুফানগঞ্জে ৩৩.৪০ মিমি, মাথাভাঙায় ২৩.২০ মিমি এবং কোচবিহারে ১৯.২০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। ফুঁসছে শিলিগুড়ির মহানন্দা, বালাসন নদী। নদীর চারপাশ জল থৈ থৈ। টানা বৃষ্টিতে শিলিগুড়ির বেশ কয়েকটি নীচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বিশেষ করে ৩১ নং ওয়ার্ডের অশোক নগরে একাধিক বাড়ি জলমগ্ন। ৩৯ নং ওয়ার্ডের হায়দরপাড়ার একাংশ জলের তলায়। দুই ওয়ার্ডেই বেহাল নিকাশী নালার কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা পুরসভাকেই এর জন দায়ী করেছেন।

বার বার বলার পরও পুর কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে মাটিগাড়া ব্লকের কিছু এলাকাও। আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের শরৎ নগর এলাকা প্লাবিত। ঘরবন্দি হাজারের ওপর বাসিন্দা। এলাকাবাসীদের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের সমস্যা। নিকাশী, নালার বেহাল অবস্থা। জল বের হওয়ার কোনও পথ খোলা নেই। তাই প্রতি বছরই দুর্ভোগ বাড়ে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ