ক্যানিং: তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং, বাসন্তী, বারুইপুর, সোনারপুর, গড়িয়া, জয়নগরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন।

টানা বৃষ্টিতে ক্যানিং থানার নোনাঘেরি, সঞ্জয়পল্লী, নবপল্লী, গার্লস স্কুল পাড়া সহ একাধিক এলাকার রাস্তাঘাট অন্তত এক হাঁটু জলের তলায়। অন্যদিকে রাজপুর সোনারপুর পুরসভার এক থেকে তিন নম্বর ওয়ার্ড, পনেরো, ষোলো নম্বর ওয়ার্ড ও জলমগ্ন। জলমগ্ন বারুইপুর পুরসভার দুই, আট, দশ ও চার নম্বর ওয়ার্ড। অন্যদিকে জয়নগর মজিলপুর পুরসভার দুই ও ছয় নম্বর ওয়ার্ড জলের তলায়। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী হওয়া সত্ত্বেও বাসন্তী সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তর ও জলের তলায়। সব মিলিয়ে টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দাদের সাধারণ জনজীবন বিপর্যস্ত।

শনিবার রাত থেকেই নিম্নচাপের জন্য কার্যত টানা বৃষ্টি শুরু হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সেগুলির মধ্যে অন্যতম। জেলার মাতলা, বিদ্যাধরী, গোমর সহ বিভিন্ন নদীতে জল বেড়েছে প্রচুর পরিমাণে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর আগামী ৪৮ ঘণ্টা ধরে টানা বৃষ্টি চলবে। ফলে এখনো সেভাবে জেলা জুড়ে বন্য পরিস্থিতি না হলেও আগামী দুদিনের টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি এই টানা বৃষ্টি ও সুন্দরবনের নদী গুলিতে জল বাড়ার কারণে বেশ কয়েকটি জায়গায় নদী বাঁধের বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। গোসাবা, কুলতলি, বাসন্তীর বেশ কয়েকটি জায়গায় নদী বাঁধের অবস্থা আশঙ্কাজনক। টানা বৃষ্টিতে জেলার কয়েকশো কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রশাসনের তরফ থেকে সেগুলি মেরামতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত নদী বাঁধ গুলি ও মেরামতির কাজে হাত লাগিয়েছে সেচ দপ্তর। সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও বলেন, “ আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। দশ হাজার ত্রাণের ব্যবস্থা রেখেছি। আরও ত্রিশ হাজার ত্রাণের জোগানের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও নদী বাঁধ মেরামতি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমরা সকলে মিলেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। তবে বর্তমানে জেলার বেশ কিছু এলাকার জলবন্দী অবস্থা ছাড়া তেমন চিন্তার কিছু নেই”।