নয়াদিল্লি: দক্ষিণ থেকে উত্তর, বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহতা বাড়ছে সর্বত্রই। ঘুম উরেছে সবদিকেই। কেরল, কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি এখন উত্তর ভারতেও অবনতি হয়েছে পরিস্থিতির। দিল্লি, উত্তরাখন্ড, পঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। আশঙ্কা সংখ্যা আরও বাড়বে। কারণ ভারি বৃষ্টি আরও বাড়বে উত্তর ভারতে।

বন্যা পরিস্থিতি উত্তর ভারতে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮ জন। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতায় বেড়েছে ধ্বস। যার জন্য বহু মানুষ হরিয়াণা, উত্তরাখন্ড, পঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশে ও জম্মুতে আটকে পরেছেন।

ভারতীয় বায়ুসেনা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জম্মুতে চালাচ্ছে উদ্ধারকাজ। হরিয়াণা ও পঞ্জাবের বেশ কিছু অংশে প্রশাসনকে সর্তক থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। পঞ্জাবে সুতলেজ নদীর তীরবর্তি ৫২ টি গ্রামের জন্য খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির। জলসীমা ক্রমশ বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার বাসিন্দাদের অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। ফিরোজপুরে তৈরি করা হয়েছে ত্রাণ শিবির। ২০০ জন আর্মি মাখু ও জিরা এলাকায় মোতায়েন রাখা হয়েছে উদ্ধার কাযে সাহায্যের জন্য।

হথিনী জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলে হরিয়ানা সরকার যেকোনো আপতকালীন স্থিতির জন্য সেনাদের প্রস্তুত থাকার অনুরোধ করেছেন। অন্যদিকে, হথিনী জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলে দিল্লিতেও বন্যার সম্ভাবনা প্রবল ভাবে দেখা দিয়েছে। সেনার সাহায্যে দেরাদুনে বিলি করা হচ্ছে খাবার, জল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

সোমবার দেখা যায়, দিল্লির আয়রন ব্রিজের উপর দিয়ে বইছে যমুনা। অতিক্রম করতে চলেছে বিপদসীমা। তাই পরিস্থিতি ঠেকাতে তড়িঘড়ি এদিন জরুরি বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সকাল ৮ টা পর্যন্ত দেখা যায়, যমুনার জলস্তর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৪.৫৬ মিটার। যমুনার জন্য জলের বিপদসীমা ২০৫.৩৩ মিটার। অর্থাৎ সকাল পর্যন্ত যমুনার যে জলস্তর ছিল তা বিপদসীমার খুব নিকটেই অবস্থান করছে। যমুনার জলের বিপদসীমা অতিক্রম করতে আর বাকি রয়েছে মাত্র ১০০ মিটার দুরত্ব।

দিল্লি সরকার জানিয়েছে, নিচু এলাকার লোকেদের থাকার ব্যবস্থা করার জন্য, তাঁবু খাটানোর কাজ চলছে। রাজধানীতে জারি হয়েছে বন্যা সতর্কতা। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের পুণেতে বন্যার ফলে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৬ হয়ে গেছে। অগাস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসা বন্যার জন্য সাংগলী এবং কোলাপুর প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্তর্গত পাঁচটি জেলা এবং সোলাপুর, পুণে ও সাতারা খন্ডের অন্যান্য জেলে গুলির পরিস্থিতি খুবই খারাপ।

পাশাপাশি, দক্ষিণভারতের কেরলে বন্যার ফলে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১২১ তে গিয়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে কর্নাটকে বৃষ্টির ফলে রবিবার মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৬ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ১০ জন মারা গেছে এবং নিখোঁজ আরও ১০ জন।

২০১৮ সালে জুলাই মাসে যমুনা নদীর জলস্তর বিপদ সীমার ওপর থেকে প্রবাহিত হওয়ার সময় দেশের রাজধানীতে যমুনার ওপর স্থিত পুরানো ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতের ব্যাপারে কিছু দিনের জন্য বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। গত বছর যমুনা নদীর জলস্তর ২০৫.৫ মিটারের ওপর পৌঁছেছিল।