স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ ও বাঁকুড়া: বন্যায় ভাসছে উত্তরবঙ্গ, তবে বৃষ্টির আশায় চাতক পাখির মত বসে রয়েছে দক্ষিণবঙ্গ৷ তবে বৃষ্টির সুখবর শুনিয়েছে আবহাওয়া দফতর৷

ইতিমধ্যেই গত ছয় ঘন্টায় ১০ সেন্টিমিটার করে জল বেড়েছে মালদহ জেলার গঙ্গা, ফুলহার ও মহানন্দা নদীতে। গঙ্গা ও মহানন্দা নদীর জল চরম বিপদ সীমা থেকে মাত্র ৭০ সেন্টিমিটার কম রয়েছে। সেচ দফতর এই দুটি নদীতে হলুদ সংকেত জারি করেছে। আর ফুলহার নদীতে লাল সর্তকতা জারি রয়েছে।

এর ওপর বিপদ বাড়িয়েছে অবিরাম মুশলধারে বৃষ্টি। এই অবস্থায় জেলার দুটি ব্লক হরিশ্চন্দ্রপুর ২নং ব্লক ও রতুয়া ১নং ব্লকের অবস্থা সঙ্কটজনক। ফুলহার নদীর জলের তোড়ে দুদিন আগে সূর্যাপুর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর কাহালা, দেবীপুর গ্রামে জল ঢুকেছে। জলবন্দী অবস্থায় রয়েছেন মহানন্দাটোলা, বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৩৬ হাজার বাসিন্দা।

অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুর ২নং ব্লকের ধৌলতনগর, তিলজানা, গোবরাঘাট সহ প্রায় ১২টি গ্রামের ৩৮হাজার বাসিন্দা জলবন্দী রয়েছেন। এই দুটি ব্লকের সরকারি আধিকারিক ও কর্মীদের সর্তক থাকার ও পরিস্থিতির উপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে বিহারের পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে ভয়ঙ্কর হবে মালদহের পরিস্থিতি।

মালদহ সেচ দফতরের আধিকারিকেরা জানান বন্যা মোকাবিলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে অবিরাম বৃষ্টির ফলে নদীগুলিতে আগামী ২৪ঘন্টা জলস্ফীতি হবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রশাসন আগাম ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে কার্যত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। নিজের ভিটে বসতমাটি ছেড়ে উচু স্থানে সরে যাচ্ছেন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ এখনও প্রশাসন কোন রকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। ফলে নিজেরাই কোনওভাবে পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করছেন।

অন্যদিকে, হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস সত্যি করে দুপুরের পর থেকে বজ্র বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি শুরু হল বাঁকুড়ায়। বাঁকুড়া শহর সহ জেলার প্রায় সর্বত্রই বৃষ্টি হচ্ছে। তবে জেলার দক্ষিণাংশে আকাশ কার্যত মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির পরিমান যথেষ্টই কম।

এদিনের বৃষ্টিতে গত কয়েক দিনের দুর্বিষহ গরম থেকে খানিকটা রেহাই পেয়েছেন মানুষ। তবে বৃষ্টির পরিমান যা তাতে এখনই চাষের কাজ শুরু করতে পারবেন না কৃষকরা। এই কাজের জন্য আরো বেশী বৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে।

এবছর জেলায় এখনো পর্যন্ত ৫০ শতাংশের কম বৃষ্টি হয়েছে। সেকারণেই মূলত: বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল এই জেলায় বর্ষাকালীন ধান চাষের কাজ অনেকটাই পিছিয়ে। এবার ঠিক কতো পরিমান জমিতে এবার চাষ হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউই।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব