মালদহঃ  ক্রমশ জল বাড়ছে ফুলহার নদীতে। আর তার জারি হয়েছে লাল সর্তকতা। মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভাঙন ও বন্যার জল বাড়ায় গত কয়েক দিনের মধ্যে তলিয়ে গিয়েছে ১৫০টি বাড়ি। প্রায় ২০০ পরিবার জলবন্দি হয়ে রয়েছেন। রতুয়া ১ ব্লকের মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকায় খোলা আকাশের নিচে চলছে বন্যা , ভাঙ্গনে বিধ্বস্ত মানুষদের বসবাস। ইতিমধ্যে সেচ দফতর থেকে ফুলহার নদীতে লাল সর্তকতা জারি করা হয়েছে। জলবন্দি পরিবারগুলোকে সংশ্লিষ্ট এলাকার পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের সাহায্যে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

চাচোল মহাকুমার রতুয়া ১ ব্লকের মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বঙ্কুটোলা, বাজিতপুর , বদনটোলা , মেঘুটোলা সহ আরও কয়েকটি গ্রামে এক দিকে চলছে বন্যা, আরেকদিকে চলছে ভাঙন। নদীর দাপটে শতাধিক গ্রামবাসীরা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছেন। ইতিমধ্যে প্রশাসনের কাছে বন্যার্তদের সহযোগিতার জন্য আর্জি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।

জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন , ফুলাহারের জলস্তর বেড়েছে। আমরা সতর্ক আছি। জেলার চর এলাকাগুলিতে নজরদারির পাশাপাশি প্রচার করা হয়েছে। উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার কথা জানিয়েছি। সাথে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সব রকম ভাবে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

রতুয়া ১ ব্লকের মহানন্দাটোলা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ফুলহার নদীর পাড়ে চলছে ব্যাপক ভাঙন, সঙ্গে জল ঢুকেছে একাধিক গ্রামে।ইতিমধ্যেই গঙ্গা গর্ভে তলিয়েছে বঙ্কুটোলার গ্রামের ১৫০টি বসত ভিটা, সহ চাষের জমি। সর্বস্য হারিয়ে কার্যত দিশেহারা ওই গ্রামের শতাধিক বাসিন্দারা। ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচেই চলছে বেঁচে থাকার লড়াই ।

রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখার্জি জানিয়েছেন, ফুলহার নদীর জল বাড়ছে । নদী সংলগ্ন বেশকিছু গ্রামে জল ঢুকে পড়েছে। কয়েকটি জায়গায় আবার ভাঙানও হয়েছে। আমাদের পরিস্থিতির ওপর নজর রয়েছে। বঙ্কুটোলা গ্রামে গ্রামে জল ঢুকেছে। মানুষ যাতে আশপাশের সরকারি স্কুলগুলোতে আশ্রয় নিতে পারে , সে ব্যাপারেও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বঙ্কুটোলা গ্রামে ফুলাহার নদীর পাড়ে চলছে ভয়াবহ ভাঙন। পাশাপাশি ফুলাহারের জল ঢুকে প্লাবিত করেছে বাজিতপুর , বদনটোলা , মেঘুটোলা গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। জলবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০০টি পরিবার। বিঘার পর বিঘা চাষের জমি প্লাবিত হয়েছে ফুলহার নদীর জলে। বঙ্কুটোলা গ্রামের বাসিন্দা হারাধন মন্ডল ,সুবল মণ্ডল, রফিকুল সেখদের বক্তব্য, নদীর জল গ্রামে ঢুকে পড়ায় ভিটেমাটি ডুবে গিয়েছে। তার ওপর পানীয় জলের চরম সমস্যা তৈরি হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে একদিকে ভাঙ্গন ও এক দিকে বন্যার জল ঢুকতে শুরু করায় সকলের ঘুমো উবে গিয়েছে।

বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা রহমত শেখ, মিজানুর শেখ , বকুল শেখদের বক্তব্য , লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে জলস্তর। উঁচু স্থানে আশ্রয় খোঁজে এদিক সেদিক ছুটে বেড়াতে হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত এলাকায় প্রশাসনের কোনো কর্তাদের দেখা মেলে নি। মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কিরণ মাঝি জানিয়েছেন , ফুলহার নদীর ভাঙ্গন ও প্লাবনে নদীর জলে তলিয়ে গিয়েছে বঙ্কুটোলা গ্রামের প্রায় ১৫০ টি বাড়ি। প্রায় ২০০ টি পরিবার জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। এব্যাপারে ব্লক প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব আমরা আশ্রয়হীন ওইসব পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।