প্রদ্যুত দাস, জলপাইগুড়ি: অসময়ে বর্ষা এলে হরিণে নাকি বাঘের গাল চাটে। বাংলায় এই প্রবাদটি বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু অসময়ে মানে গ্রীষ্মে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা হয়!

এমন অবস্থা হলে কী হতে পারে তা বেশ ভালো টের পাচ্ছে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার বাসিন্দারা। প্রখর গরমে যখন রাজ্যবাসীর যখন নাজেহাল অবস্থা তখন বন্যার কবলে জলপাইগুড়ির বহু মানুষ।

বৃষ্টিতে গ্রীষ্মের দাবদাহ কিছুটা কমেছিল। কিন্তু এরপরেই যা হল সেটা কল্পনার বাইরে। সামান্য বৃষ্টির কারণেই বন্যার কবলে পরেছে জলপাইগুড়ি এলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। কিন্তু কেন এমন অবস্থা হল?

এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে পড়শি দেশের আবহাওয়ায়। ভুটানে গত কয়েকদিনে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার কিছুটা প্রভাব পড়েছিল ডুয়ার্স এবং জলপাইগুড়ি এলাকায়। তবে ডুয়ার্সে বৃষ্টির প্রকোপ ভুটানের মতো ছিল না। ভুটানের বৃষ্টির জল উত্তরবমঙ্গের নদী হয়ে প্রবেশ করেছে জলপাইগুড়িতে। যার জেরেই জলমগ্ন হয়ে পরেছে জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা।

জলে প্রায় নিমজ্জিত হয়ে গিয়েছে বানরহাট হাসপাতাল চত্বর। এই বন্যার কারণে শতাধিক পরিবার ঘর ছাড়া হয়ে গিয়েছেন। ঘর ছাড়া মানুষদের আশ্রয় নিতে হয়েছে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে।

বানারহাট থেকে বিন্নাগুরি গামী সড়কের উপরে রাস্তা সম্পসারণের কাজ চলছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ধীর গতিতে চলা কাজ এবং অপরিকল্পিতভাবে কাজ করার ফলেই তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে জল ঢুকে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে সুভাষ পল্লী, এস এম কলোনি, নেতাজি পাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রতিবাদে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রেখেছে বাসিন্দারা।

সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে চলছে গ্রীষ্মের দাবদাহ। ক্রমশ উর্ধ্বমুখী তাপমাত্রার পারদ। এই অবস্থায় উত্তরের জলপাইগুড়ির ছবিটা কিছুটা হলেও আলাদা। তবে গ্রীষ্ম থেকে স্বস্তি পেলেও বন্যার কবলে পরেছেন বহু মানুষ।

উত্তর বন্যা হলেও স্বস্তির কোনও চিহ্ন নেই মহানগরে। অদূর ভবিষ্যতে স্বস্তি মলবে বলেও মনে করছে না আবহাওয়া দফতর। রবিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে দুই ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি বেশি। সর্বোচ্চ আর্দ্রতা ৯০ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৫৪ শতাংশ।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও