গুয়াহাটি: করোনা মহামারীর মধ্যে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়। একদিকে আমফানে বিধ্বস্ত পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশার বেশ কিছু অংশ। আর এবার বন্যা। ভেসে গেল গ্রাম।

শুক্রবার ভয়াবহ বন্যা অসমে ক্তিগ্রস্ত হয়েচে অন্তত ৬০০ মানুষ। ব্রহ্মপুত্র নদীর জল ফুলে-ফেঁপে এই বন্যা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির জেরেই ব্রহ্মপুত্র নদীতে বাণ আসে। বৃষ্টি ক্রমশ বেড়ে যাওয়ায় জলস্তর বাড়তে থাকে। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনার এসসি কালিতা বলেন, ১৬ মে থেকে একটু একটু করে বাড়ছে জলস্তর।

প্রত্যেক ২-৩ ঘণ্টায় ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার করে জলস্তর বাড়ছে বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যেক বছরই অসমে ব্যাপক বন্যা হয়ে থাকে। বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনেক মানুষের মৃত্যুও হয় এই বন্যায়। চাষের ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে ধাক্কা খায় অর্থনীতিও।

অসমের স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট তাদের বুলেটিনে জানিয়েছে অসমের কালগাছিয়া গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৩০ জন মানুষ। জিয়া ভরালি নদীর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে পরিযায়ী শ্রমিক ফেরায় অসমে ফের বাড়ছে সংক্রমণ। ভিন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার পরই মাথাচাড়া দিচ্ছে সংক্রমণের মাত্রা। গত বুধবার রাজ্যে সর্বোচ্চ ৪২ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে। রেহাই পায়নি ২ মাসের একটি শিশুও।

দেশ জুড়ে কী করি কী করি হাহাকার। কেন্দ্র-রাজ্যের উদ্যোগে শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার পরই নয়া চিন্তা দেখা দিচ্ছে অসমের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিতে। সোমবার থেকেই একে একে বাড়ছে সংক্রমণের মাত্রা। ১৮ মে পর্যন্ত রাজ্যে নতুন করে ৫৭ জনের শরীরে করোনার সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৪০ জনতেই ভিন রাজ্য থেকে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানা যায়। বর্তমানে তাদের সকলের আশ্রয় কোয়ারেন্টাইন সেন্টার।

মাত্র কয়েকজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। অসমের চিকিৎসকরা জানান, “আগে যেখানে ১০ দিনে বাড়ছিল সংক্রমণের হার সেখানে মাত্র ৫ দিনের মধ্যেই সংক্রমণের মাত্রা দ্বিগুণ হারে ধরা পড়ছে।” হঠাৎ রাজ্যে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরে আসাকেই চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এপর্যন্ত যত সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে সবটাই মিলেছে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV