স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: জরাজীর্ণ স্কুল বাড়ি৷ চলছিল মেরামতির কাজ৷ কিন্তু দুপুরে ক্লাস চলাকালীন আচমকা বিকট শব্দে ভেঙে পড়ল স্কুলের একাংশের চাঙড়৷ পাঁচ ছাত্রীর গায়ে পড়ে সেই চাঙড়ের অংশ৷

তিনজন ছাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷ সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে মহিষাদল গার্লস হাই স্কুল প্রাথমিক বিভাগ বিদ্যালয়ে৷

আরও পড়ুন: ভারতীর গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

বিদ্যালয় সূত্রে খবর, সোমবার স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ সিমেন্টের চাঙ্গড় বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে৷ যে অংশে এই চাঙড় ভেঙে পড়ে সেখানে পাঁচজন ছাত্রী বসেছিল৷ তাদের উপরই এই চাঙড় পড়েছে বলে দাবি করেছে স্কুলের বাকি পড়ুয়ারা৷

স্কুল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি আহত ছাত্রীদের উদ্ধার করে স্থানীয় বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়৷ সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা করে তিন ছাত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক৷ তাদের মাথায় চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর সুনামিতে ধ্বংসস্তুপে গোটা দেশ, ক্রমশ বাড়ছে মৃত্যু

স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি স্কুল বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন জায়গায় মেরামতির কাজ চলছিল৷ তবে বেশ কিছু জায়গায় সেই মেরামতি হলেও সঠিক ভাবে কাজ না হওয়ার কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনার পর স্কুল ছাত্রীদের আতঙ্ক গ্রাস করেছে৷

যদিও আহত ছাত্রীদের চিকিৎসার যাবতীয় দায়ভার স্কুল কর্তৃপক্ষই নিয়েছে৷ এই বিষয়ে আহতদের পরিবার থেকে এখনও কোনও অভিযোগ করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে৷ আশঙ্কাজনক দুই ছাত্রীর কাছে স্কুলের শিক্ষকরা রয়েছে৷

আরও পড়ুন: মহাদেবের আরাধনায় দেবীর আগমন বহরমপুরে

চিকিৎসক জানিয়েছেন, তেমন ভয়ের কারণ না থাকলেও একটু সময় সাপেক্ষ এই চিকিৎসা৷ তাদের মাথায় চোট লাগার কারণেই এখন তাদের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে৷ বর্তমানে স্কুলের পঠনপাঠন শুরু হলেও ছাত্রীদের ও অভিভাবকদের মধ্যে আতংকের ছায়া রয়ে গিয়েছে৷

প্রসঙ্গত, স্কুলে মেরামতির কাজ চলায় শিক্ষকরা আগেই ছাত্রীদের সতর্ক করেছিল৷ কিন্তু ক্লাস রুমের একাংশ যে বেশ ভয়ানক অবস্থায় রয়েছে তা অনেকেই খেয়াল করেননি৷ তাই এই বিপত্তি বলে জানিয়েছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা৷ যদিও ভবিষ্যতে যাতে এমন বিপদের সম্মুখে পড়তে না হয় তার জন্য এখন থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ৷

আরও পড়ুন: সরকার আইএলঅ্যান্ড এফএস-এর নিয়ন্ত্রণ নিতে উদ্যোগী