কলকাতা: অভিষেকটা এভাবে হবে স্বপ্নেও বোধহয় ভাবেননি হায়দরাবাদ এফসি কোচ ফিল ব্রাউন। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে কেরল ব্লাস্টার্সের কাছে এগিয়ে গিয়েও হারের পর শুক্রবার ঘরের মাঠে ফিরে আসার জন্য আইএসএলে নবজাতকদেরই বেছে নিল হাবাসের ছেলেরা। আদিল খান, নিখিল পূজারি কিংবা ময়দানের প্রাক্তনী রবিন সিং সমৃদ্ধ হয়দরাবাদ এফসি’কে ৫ গোলের মালা পরাল এটিকে।

২০১৮-১৯ মরশুমে ফরোয়ার্ড লাইন ব্যর্থ হওয়ায় সেভাবে গোল আসেনি। সেকথা মাথায় রেখেই ওয়েলিংটন ফোনিক্সের আপফ্রন্টে গত মরশুমে দুরন্ত খেলা রয় কৃষ্ণা-ডেভিড উইলিয়ামস জুটিকে চলতি মরশুমে উড়িয়ে এনেছে এটিকে ম্যানেজমেন্ট। প্রথম ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকলেও ফিজি-অস্ট্রেলিয়ান জুটি জ্বলে উঠলেন লিগের দ্বিতীয় ম্যাচেই। প্রিমিয়র ডিভিশন এ-লিগে গত মরশুমে ২৯ গোলের কান্ডারি কৃষ্ণা-উইলিয়ামস জুটিতেই কার্যত হায়দরাবাদের ডিফেন্স লুট করলেন অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস।

ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই সাঁড়াশি আক্রমণে হায়দরাবাদ রক্ষণকে চেপে ধরে এটিকে’র ফরোয়ার্ড লাইন। তবে গোল পেতে ২৫ মিনিট অবধি অপেক্ষা করতে হয় কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটিকে। জাভি হার্নান্ডেজের ঠিকানা লেখা থ্রু বল ধরে বিপক্ষ গোলরক্ষক কমলজিত সিংকে নাটমেগে পরাস্ত করেন ওয়েলিংটন ফোনিক্সের হয়ে এ-লিগে গত মরশুমে ১১ গোল করা অজি স্ট্রাইকার ডেভিড উইলিয়ামস। প্রথম গোলের রেশ ফিকে হতে না হতেই দ্বিতীয় গোল এটিকে’র। ২৭ মিনিটে কৃষ্ণার গোলের বলটি সাজিয়ে দেন উইলিয়ামসই।

উইলিয়ামসের থেকে বল পেয়ে বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে মাটি ঘেঁষা শটে কমলজিতকে দ্বিতীয়বারের জন্য পরাস্ত করেন ফিজির জাতীয় দলের স্ট্রাইকার। এটিকে আপফ্রন্টে ফিজি-অস্ট্রেলিয়ান জুটির মধ্যে এদিন দুরন্ত তালমিল ছিল চোখে পড়ার মতো। নিজেদের মধ্যে নিয়মিত প্রান্ত বদল করে বিপক্ষ রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন কৃষ্ণা-উইলিয়ামস। সঙ্গে বজায় ছিল মাঝমাঠ থেকে বলের পর্যাপ্ত সাপ্লাই। বিরতির আগে উইলিয়ামসের দ্বিতীয় গোল মাঝমাঠ থেকে জয়েশ রানের দুরন্ত থ্রু ধরে। এক্ষত্রেও নাটমেগে হায়দরাবাদ দুর্গের শেষ প্রহরীকে পরাস্ত করেন অজি স্ট্রাইকার।

প্রথমার্ধেই ম্যাচ মুঠোয় ভরে নেওয়া এটিকে’র গোলক্ষুধা বজায় ছিল দ্বিতীয়ার্ধেও। ৭০ মিনিটে জাভি হার্নান্ডেজের পরিবর্ত হিসেবে নেমে জোড়া গোল করে হায়দরাবাদের অবস্থা আরও শোচনীয় করে তোলেন এডু গার্সিয়া। প্রণয় হালদারের থ্রু বল ধরে প্রবীরের ডানপ্রান্তিক পাস থেকে স্কোরলাইন ৪-০ করেন স্প্যানিশ উইঙ্গার। গার্সিয়ার দ্বিতীয় তথা এটিকে’র পঞ্চম গোলটি প্রবীরেরই বাঁ-প্রান্তিক ক্রস থেকে।