ঢাকা: চট্টগ্রামে ১৯৮৮ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কনভয়ে হামলা৷ গুলিতে মৃত্যু ২৪ জনের৷ যা চট্টগ্রাম গণহত্যা নামে পরিচিত৷ ৩৩ বছর পর সেই মামলায় রায় ঘোষণা৷ সোমবার পাঁচজন পুলিশকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত৷

সোমবার চট্টগ্রাম বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইসমাইল হোসেন এই রায় দেন৷ মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন তৎকালীন পুলিশের ইন্সপেক্টর গোপাল চন্দ্র মন্ডল ওরফে জে সি মন্ডল, হাবিলদার প্রদীপ বড়ুয়া, কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান, মমতাজ উদ্দিন ও মো. আবদুল্লাহ৷ এদের মধ্যে একমাত্র গোপাল চন্দ্র মন্ডল ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন৷ বাকিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন৷

মামলার আট আসামির মধ্যে তিনজনের ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে৷ এরা হলেন- চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদা, কনস্টেবল আব্দুস সালাম ও বশির উদ্দিন৷

সরকার পক্ষের কৌঁসুলি শবু প্রকাশ বিশ্বাস রায়ের পর জানান, ৫৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন৷ তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত৷ পৃথক আরেকটি ধারায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে৷

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভা ছিল৷ কিন্তু জনসভা শুরুর আগে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাক আদালত ভবনের দিকে আসার সময় গুলিবর্ষণ শুরু হয়৷ এতে সেই সময় ২৪ জন মারা যান৷ গুলিবর্ষণের সময় মানববেষ্টনী তৈরি করে শেখ হাসিনাকে আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়৷

ওইদিন পুলিশের গুলিতে নিহতরা হলেন- মো. হাসান মুরাদ, এথলেবার্ট গোমেজ কিশোর, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, পঙ্কজ বৈদ্য, স্বপন চৌধুরী, বাহার উদ্দিন, অজিত সরকার, চান্দ মিয়া, রমেশ বৈদ্য, ডি কে চৌধুরী, বদরুল আলম, পলাশ দত্ত, গোবিন্দ দাশ, আব্দুল কুদ্দুস, শাহাদাত, আব্দুল মান্নান, সাজ্জাদ হোসেন, সবুজ হোসেন, বি কে দাশ, সমর দত্ত, কামাল হোসেন, হাসেম মিয়া ও মো. কাসেম।