কলকাতা২৪x৭: ক্রিকেট পাগল একটা দেশে ফুটবল বছরের পর বছর ধরে ব্রাত্য, উপেক্ষিত হয়ে এসেছে। কিন্তু ব্যতিক্রম ভারতীয় ফুটবলের মক্কা কলকাতা। এদেশে যখনই ফুটবল বারবার উপেক্ষিত হয়েছে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান নামগুলো জানান দিয়েছে যেদেশে এশিয়ার প্রাচীন ডার্বি রয়েছে সেই দেশে ফুটবল উপেক্ষিত হবে কীভাবে?

ভারতীয় ফুটবলের দুই পাওয়ার হাউস এবং শিরদাঁড়া ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান এবার আইলিগের গন্ডি পেরিয়ে আইএসএলে। দেশের টপ টিয়ার ফুটবল লিগে প্রথম ডার্বি অনুষ্ঠিত চলেছেন শুক্রবার। কাকতালীয়ভাবে বছরটা আবার ডার্বির শতবর্ষ। বিগত ১০০ বছরে কত যে স্মরণীয় ডার্বি দেখেছে কলকাতা কিংবা দেশের অন্যান্য শহর, তার ইয়ত্তা নেই। তবুও তার মধ্যে থেকে সেরা পাঁচটি ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচ বেছে নেওয়া হলে কোনগুলি থাকবে দেখে নেওয়া যাক একনজরে।

সর্বকালের সেরা পাঁচটি বড় ম্যাচ:

মোহনবাগান ৩ – ইস্টবেঙ্গল ১ (আইএফএ শিল্ড ফাইনাল ১৯৬৯): প্রয়াত অমল দত্তর কোচিংয়ে শিল্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেবার ১১তম আইএফএ শিল্ড ঘরে তুলেছিল মোহনবাগান। ম্যাচের ৩০ মিনিটের মধ্যে ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। জোড়া গোল করেছিলেন প্রণব গঙ্গোপাধ্যায়ের এবং একটি গোল করেছিলেন সুকল্যাণ ঘোষ দস্তিদারের। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একটি মাত্র গোল ছিল পিটার থঙ্গরাজের।

পরিচিত ঘরানা ছেড়ে বেরিয়ে এসে প্রবাদপ্রতিম অমল দত্তর ৪-২-৪ ফর্মেশন সাড়া জাগিয়েছিল ওই বছরে।

ইস্টবেঙ্গল ৫ – মোহনবাগান ০ (আইএফএ শিল্ড ফাইনাল ১৯৭৫): এই দশকটা ছিল ইস্টবেঙ্গলের স্বর্ণযুগ। আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সর্বাধিক ৫-০ ব্যবধানে হারানোর নজিরটা হয়েছিল এই দশকেই। ১৯৭৫ আইএফএ শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে ১৪ বারের জন্য খেতাব জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদের হয়ে দু’টি গোল করেছিলেন শ্যাম থাপা। এছাড়া সুরজিৎ সেনগুপ্ত, রঞ্জিত মুখোপাধ্যায়, শুভঙ্কর সান্যাল করেছিলেন একটি করে গোল।

ইস্টবেঙ্গল ৪ – মোহনবাগান ১ (ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনাল ১৯৯৭): ১৯৯৭ ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচ ভারতীয় ফুটবলের এক ঐতিহাসিক দিন। দেশের ফুটবল ইতিহাসে সর্বাধিক ১ লক্ষ ৩১ হাজার দর্শক সেদিন ভিড় জমিয়েছিলেন সল্টলেক স্টেডিয়ামে। নাজিম-উল-হক প্রথমে গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলকে। এরপর সল্টলেক স্টেডিয়াম দেখেছিল ‘পাহাড়ি বিছে’ বাইচুং ভুটিয়ার ম্যাজিক। কলকাতা ডার্বির ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছিলেন বাইচুং। বাগানের হয়ে একটি গোল করেছিলেন চিমা ওকোরি।

মোহনবাগান কোচ অমল দত্তের ‘ডায়মন্ড সিস্টেম’ সেদিন মুখ থুবড়ে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল কোচ প্রদীপ বন্দোপাধ্যায়ের সামনে।

মোহনবাগান ৫ – ইস্টবেঙ্গল ৩ (আইলিগ ২০০৯): ১৯৭৫ পাঁচ গোলে হারের জ্বালা সেদিন পুরোপুরি না হলেও কিছুটা মকুব হয়েছিল মোহনবাগান সমর্থকদের। সবুজ-মেরুন জার্সিতে সেদিন একাই ৪ গোল করেছিলেন নাইজিরিয়ান স্ট্রাইকার এডে চিডি। যদিও নির্মল ছেত্রীর গোলে সেদিন ম্যাচে এগিয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এরপর মনীশ মাথানির দূরপাল্লার শট এবং চিডির জোড়া গোলে বিরতিতে ৩-১ গোলে এগিয়েছিল মোহনবাগান।

বিরতির পর হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করে কলকাতা ডার্বিতে প্রথম একাই চার গোল করার নজির গড়েছিলেন চিডি। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে বিরতির পর দু’টি গোল করেন ইউসুফ ইয়াকুবু এবং স্রেকো মিত্রোভিচ।

ইস্টবেঙ্গল ৪ – মোহনবাগান ০ (কলকাতা ফুটবল লিগ ২০১৫): ২০১৫ কলকাতা ফুটবল লিগে ডার্বির ইতিহাসে আরও একবার সর্বাধিক ব্যবধানে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু অল্পের জন্য তা হয়নি। ফ্রি-কিক থেকে জোড়া গোল করে লাল-হলুদ জনতার নয়নের মনি হয়ে উঠেছিলেন ডু ডং। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে বাকি গোল দু’টি করেছিলেন মহম্মদ রফিক এবং রাহুল ভেকে। ১৯৩৬ পর দ্বিতীয়বারের জন্য মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ৪-০ ব্যবধানে বিরাট জয় তুলে নিয়েছিল লাল-হলুদ। একইসঙ্গে এই জয় তাদের টানা ষষ্ঠবারের জন্য কলকাতা লিগ জিততেও সাহায্য করেছিল।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.