বহরমপুর: একই জেলায় তিনটি পৃথক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল পাঁচ জনের৷ মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘি, নবগ্রাম ও বহরমপুরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনাগুলি ঘটে৷

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার নবগ্রামের শিবপুরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় মৃত্যু হয় নবগ্রামের বিলর গ্রামের বাসিন্দা বছর ২৮-এর ইন্দ্রজিৎ দত্তের। তিনি পলসণ্ডা এলাকায় একটি বেসরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন। ইন্দ্রজিৎ একা বহরমপুরে থাকতেন। এদিন সকালে মোটর বাইকে করে বহরমপুর থেকে নবগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি৷ তাঁর বাইকে বান্ধবী ছিলেন৷ পথে মেহেদিপুর এলাকায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটর বাইক থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়েন ইন্দ্রজিৎ দত্ত ও তাঁর বান্ধবী।

তখনই উলটো দিক থেকে আসা একটি দশ চাকা লরি ইন্দ্রজিৎ দত্ত ও তার বান্ধবী পিষে দেয়। আহতদের উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানে চিকিৎসকেরা ইন্দ্রজিৎকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ এবং তাঁর বান্ধবীকে গুরুতর জখম অবস্থায় ভরতি করা হয়৷ কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। ঘাতক গাড়িটি আটক হলেও চালক পলাতক বলে জানা গিয়েছে। মৃত ইন্দ্রজিৎ দত্তের বাড়িতে বাবা, মা ও বোন রয়েছে। তাঁর বান্ধবীর নাম রূম্পা বৈরাগী৷ তিনি কৃষ্ণনগরে বাসিন্দা৷ কনস্টেবল পদে জঙ্গিপুর কোর্টে কর্মরত ছিলেন।

অন্যদিকে পাথর বোঝাই লরির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হল দুই ব্যক্তির। মুর্শিদাবাদে সাগরদীঘির ঘটনা। মৃতদের নাম তহিদুর আলি ও জাহাঙ্গীর শেখ। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় রতনপুর সংলগ্ন ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে সাইকেলে করে বাজার সেরে বাড়ি ফিরছিল জাহাঙ্গীর৷ পথে একটি পাথর বোঝাই লরি প্রথমে ধাক্কা মারে পরে একই জায়গায় অপর আর এক ব্যক্তি তহিদুর আলীকেও পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা মারে ওই লরি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হয় ওই দুই ব্যক্তির।

স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় ঘাতক লরি সহ চালককে আটক করা হয়। মৃতদেহ আটকে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে স্থানীয় মানুষজন। অভিযোগ, নাবালক চালক কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়াই দশ চাকার লরি চালাচ্ছিল৷ সেই কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রশাসনের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন স্থানীয় মানুষজন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সাগরদীঘি থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ৩৪নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ তুলে দেয় পুলিশ। যানজট মুক্ত হয় ৩৪নম্বর জাতীয় সড়ক।

তৃতীয় ঘটনাটি বহরমপুরের চোয়াপুর মোড় এলাকার৷ লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল এক যুবকের৷ মৃতের নাম সত্যজিৎ হালদার। এদিন সে বহরমপুরের কাশীমবাজার এলাকার বাড়ি থেকে মোটর বাইকে করে ভাকুড়ি এলাকায় কাজের জন্য যাচ্ছিলেন৷ পথে চোয়াপুর মোড় এলাকায় একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার বাইকে ধাক্কা মারে৷ গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।