ঢাকা: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আগে ভারত ও বাংলাদেশের ৫ বিশিষ্টকে বিশ্ব বাঙালি সম্মান দেওয়া হল। ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি পালনের আগে এই সম্মান পেয়ে আপ্লুত অসমের বুদ্ধিজীবী তথা অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য। অসমের সর্বহারা বাঙালিদের পক্ষে তাঁর অবস্থানের জন্য তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

ভারত সরকার জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ প্রয়োগ(এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন(সিএএ) জারি করতেই তীব্র প্রতিবাদ করেন তপোধীরবাবু। সেই সঙ্গে অসমেও প্রবল বিরোধিতা হয়। এখনও বিরোধিতা চলছে।

বিশ্ব বাঙালি সম্মান প্রদান করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তচিন্তা ও জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য এই পুরস্কার প্রদান বলে জানিয়েছেন, বিশিষ্ট বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

বিশ্ব বাঙালি পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে, মানভূম ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখায় অন্যতম সুভাষচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কে। ১৯৫০ এর দশকে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের সংযুক্তি তথা বঙ্গ-বিহার সংযুক্তির বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল তৎকালীন মানভূমে। বাংলাভাষীরা এর প্রতিবাদ করেন। তৈরি হয় পুরুলিয়া জেলা। ভাষা আন্দোলনই এই জেলার জন্ম দিয়েছে।

এছাড়াও যাঁরা সম্মাননা পেয়েছেন তাঁরা হলেন, ভাষা যোদ্ধা কবি পার্থসারথী বসু এবং অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বিশ্বে ৩০ কোটি বাঙালি আছেন। তাঁরা ভালো অবস্থানে নেই। এর কারণ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রয়োগ করতে না পারা।

শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সর্বত্র পালিত হবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকায় বাংলা ভাষার অধিকার চেয়ে আন্দোলন হয়। সেই আন্দোলনে পাকিস্তান সরকারের নির্দেশে পুলিশ গুলি চালায়। শহিদদের স্মরণে দিনটি পালিত হয় তার পর থেকেই।

পরে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি দিনকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে চিহ্নিত করে। এই নিয়মে পাকিস্তানকেও দিনটি পালন করতে হয়।