হলদিয়া: প্রয়োজনীয় বিজ্ঞানসম্মত পরামর্শ দিয়ে শিল্প কারখানাকেই নিজস্ব জলাশয়ে নিজেদেরকেই মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করে এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহন করলো হলদিয়া ব্লক মৎস্য দফতর।

একই সঙ্গে হলদিয়া শিল্প কারখানার অন্যান্য কারখানার নিজস্ব জলাশয়ে মৎস্য দফতরের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় মাছ চাষ করার বার্তা দিচ্ছে। প্রয়োজনে ওই সব পুকুরের মাছ বিভিন্ন দুঃস্থ পরিবারের পুষ্টির জন্য সহায়তা করা যেতে পারে। সামাজিক ক্ষেত্রে এক নয়া দৃষ্টান্ত তৈরি করল তারা।

শিল্পাঞ্চল হলদিয়ায় রয়েছে বিভিন্ন কারখানা। আর এই কারখানাগুলোর মধ্যে আছে বিভিন্ন ছোট বড় জলাশয়। সম্প্রতি হলদিয়ার মৎস্য আধিকারিক সুমন কুমার সাহু হলদিয়ার এক বেসরকারি (হলদিয়া এনার্জী লিমিটেড) বিদ্যুৎ তৈরির কারখানা পরিদর্শনে যান। ওই বেসরকারি কারখানার ভেতরে অবস্থিত জলাশয়ের জল পরীক্ষা করে দেখেন সেখানে মাছ ছেড়ে চাষ করা যেতে পারে অর্থাৎ চাষের উপযুক্ত, কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পদ্ধতি ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী। মৎস্য আধিকারিকের পরামর্শে বেসরকারী কারখানা কতৃপক্ষ উক্ত জলাশয়ে মাছ ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই সূত্র ধরে ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার কারাখানা জলাশয়ে দেশী কার্প জাতীয় মাছের চারা ছাড়া হয়। এ যেন যান্ত্রিক জীবনে প্রানের সঞ্চার।

উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলাপরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ আনন্দময় অধিকারী, হলদিয়ার মৎস্য আধিকারিক সুমন কুমার সাহু , মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ গোকুল মাঝি, বেসকারী কারখানার বিদুষ রঞ্জন সেন, সত্যজিত গাঙ্গুলী, সহ অন্যান্যরা।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলাপরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ আনন্দময় অধিকারী বলেন হলদিয়া শিল্পাঞ্চল এলাকার অন্যন্য কারখানা গুলো যাদের জলাশয় রয়েছে তারাও জলাশয় সদ্ব্যাবহারের মাধ্যমে মাছ চাষ করার উদ্যোগী আমরা। হলদিয়ার মৎস্য আধিকারিক সুমন কুমার সাহু জানান, “এই বেসরকারী কারখানার এমন পদক্ষেপ সত্যি প্রসংসনীয়। কারখানার জলাশয়ে মাছ চাষ করলে পরিবেশ ভালো থাকে। এবিষয়ে পরিকল্পিত উপায়ে লাগসই প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছ চাষের উপযুক্ত জল পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ এর জন্য হলদিয়া ব্লক মৎস্য দপ্তরে যোগাযোগ করলে, প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে”।