সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা: ‘ওল্ড ইজ গোল্ড’। অনেকটা এমন কিছু ভেবেই হয়তো চিতাবাঘের ছালটি বিক্রি করতে চেয়েছিল দুই অভিযুক্ত। শহরের চোরা চালানের ঘটনা নতুন নয় কিন্তু এভাবে চিতাবাঘের চামড়া বিক্রির চেষ্টা বিরল। বন দফতর সূত্রে খবর উদ্ধার হওয়া চিতা বাঘের চামড়াটি বেশ পুরনো। সেটাই যে কোনও ভাবে বিক্রি করতে চেয়েছিল পাচারকারীরা।

প্রায় খান ২৫ বছরের পুরনো ওই চিতাবাঘের ছালটি। এমনটাই জানাচ্ছে বনদফতর। সেটাই বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। বন দফতর সূত্রে খবর সম্ভবত অনেক দিন ধরেই এটিকে বিক্রির চেষ্টা চলছিল। কিন্তু বিক্রি করা যায় নি। সাধারনত অন্য রাজ্যে বিক্রির চেষ্টা হয়। কিন্তু পুরনো চামড়া কেউ কিনবে কি না এ নিয়ে ধন্ধে ছিল অসৎ ওই ব্যক্তিরা। সম্ভবত এই ধন্ধ থেকেই কলকাতায় কোনওভাবে বিক্রির চেষ্টা চলছিল। এই চক্রটি পুরনো হলেও ধৃতরা বিশেষ পটু না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে বন দফতর।

সেই কারণেও কলকাতায় যেন তেন ভাবে বিক্রি করতে চেয়েছিল পাচারকারীর। মুখ্যবনপাল রবিকান্ত সিনহা বলেন, “এই বাঘের ছালটা প্রায় ২৫ বছরের পুরনো। নতুন চামরা হলে বোঝা যায়। কিন্তু চামড়ার দাগ বলছিল এটা পুরনো।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “সাধারণত এত দিন ধরে ভালো থাকে না চামরা। ভালো করে রক্ষণাবেক্ষণ করে রাখা হয়েছিল সেটি। এর জন্যই। এত দিন পরেও ছাল নষ্ট হয়নি।” বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে পাচারকারিরা ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সেটি বিক্রি করতে চেয়েছিল। তবে এই দাম বেশী না কম তা বলতে পারা যাচ্ছে না। কারণ চোরা চালানের কোনও নির্দিষ্ট দর হয় না। যে যেমন পারে দাম বসিয়ে বিক্রি করা হয়। যে যত দামে বিক্রি করতে পারবে তার লাভ তত বেশী।

ওই দুই ব্যক্তিকেই এখন ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হয়েছে রবিবার। চলছে তদন্তও। এর পিছনে বড় চক্র কাজ করছে তা নিয়ে নিশ্চিত বন দফতর। পুরো চক্রটিকেই ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে বন দফতর। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা রয়েছে কাস্টমস অফিসারকে। ধৃত অফিসারের নাম সুবব্রত মণ্ডল। রবিবার ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে চিতা কাণ্ডে ধৃতের সংখ্যা দাঁড়াল তিন।

প্রথমে শনিবার বনদফতরের বন্যপ্রাণ শাখার আধিকারিকরা গোপন সূত্রে খবর পান যে, বেশ কিছুদিন ধরে এক ব্যক্তি কলকাতায় একটি বাঘের চামড়া বিক্রির চেষ্টা করছে। শনিবার বন দফতরের আধিকারিকরা ক্রেতা সেজে হাতিবাগানে হানা দিয়ে হাতেনাতে একজনকে ধরে ফেলেন। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও একজনের নাম জানতে পারে।

তারপর ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে শ্যামবাজারে অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে বন দফতরের আধিকারিকরা। ধৃতদের নাম সৌরভ দাস ওরফে গোপাল ও তপব্রত মজুমদার। ধৃত দুই জনের বাড়িই শ্যামবাজার। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় বাঘের চামড়াটি।