লন্ডন: টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ‘কনকাশন রিপ্লেসমেন্ট’ হলেন মার্নাস ল্যাবুশেন। আশেজের দ্বিতীয় টেস্টে আহত স্টিভ স্মিথের পরিবর্ত হলেন তিনি।

বিশ্বক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আইসিসি’র রুলবুকে গত জুলাইতে অন্তর্ভুক্তি ঘটে নয়া এই নিয়মের। যাতে টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন কোনও ক্রিকেটার আহত হলে পরিবর্ত হিসেবে অন্য কোনও ক্রিকেটার ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং করতে পারবেন। পাঁচদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার নয়া এই নিয়মের আওতাভুক্ত হয়ে লর্ডসে চলতি অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টে স্টিভ স্মিথের বদলি হলেন ল্যাবুশেন।

অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে শনিবার ব্যাটিং করার সময় বিপক্ষ পেসার জোফ্রা আর্চারের একটি বাউন্সার লাফিয়ে এসে গলায় লাগে স্টিভ স্মিথের। বাউন্সারের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন প্রাক্তন অজি অধিনায়ক। লর্ডসে ফিরে আসে ফিল হিউজেস স্মৃতি। গুরুতর না হলেও কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে ব্যক্তিগত ৮০ রানে দলের চিকিৎসক রিচার্ড শ-এর সঙ্গে মাঠ ছাড়েন অজি ব্যাটসম্যান। পরে সুস্থ হয়ে ফের ব্যাট হাতে মাঠে নামেন প্রথম টেস্টে জোড়া ইনিংসে শতরানকারী। তবে ৯২ রানে ওকসের বলে লেগবিফোর হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় তাঁকে।

 

প্রথম ইনিংসে পুনরায় ব্যাট করতে নামলেও দ্বিতীয় ইনিংসে স্মিথের ব্যাট হাতে মাঠে নামা নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। সারারাত পর্যবেক্ষণে রাখা হয় তাঁকে। সকালে ঘুম ভেঙে সামান্য মাথা যন্ত্রণা ও টলায়মান অনুভব করেন স্মিথ। দলের মেডিক্যাল টিমকে এমনটাই রিপোর্ট করেন তিনি। রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে কনকাশন প্রোটোকল অনুযায়ী পঞ্চমদিন সকালে ফের মেডিক্যাল টেস্ট হয় স্মিথের। মেডিক্যাল টেস্টের রিপোর্ট দেখে বাকি সময়ের জন্য লর্ডস টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন স্মিথ। ম্যাচ রেফারির কাছে স্মিথের কনকাশন রিপ্লেসমেন্ট চেয়ে আবেদন করা হয়। সেখানেই আইসিসি’র নিয়ম মোতাবেক ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

অর্থাৎ, স্মিথের পরিবর্ত হিসেবে পঞ্চমদিন লর্ডসে বোলিং, ফিল্ডিং এবং প্রয়োজনে ব্যাটিং করতে দেখা যাবে মার্নাস ল্যাবুশেনকে। প্রতিবেদন লেখা অবধি পঞ্চমদিন দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের রান ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮২। ক্রিজে ৬৪ রানে অপরাজিত বেন স্টোকস, ১০ রানে নাবাদ জনি বেয়ারস্টো। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১৯০ রানে এগিয়ে তারা। উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের ২৫৮ রানের জবাবে ২৫০ রানে শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস।