সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: স্বাধীনতার আগে থেকেই বড় বড় বাঁশের লাঠি আর বেতের ঢাল দিয়েই যুযুধান বিক্ষোভকারীদের ঠেকানোয় কলকাতা পুলিশ দক্ষতা দেখিয়েছে৷ এই সেদিনও পর্যন্ত এই প্রাচীন আত্মরক্ষা পদ্ধতি চালু ছিল৷ সঙ্গে বড় জোর উপরি হিসেবে হেলমেটের বিবর্তন আর হাতে বিশেষ স্টিক (পলিকার্বনেট সিকিউরিটি লাঠি)৷ আধুনিকতার পথে হাঁটতে গিয়ে এবার তাদের হাতেই এল ইলেকট্রিক শিল্ড৷ বিশেষ করে কমব্যাট ফোর্সের হাতে দেওয়া হল এই ঢাল৷

বিজেপির লালবাজার অভিযান ঘিরে বুধবার ছিল পুলিশের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেই নিরাপত্তায় বিজেপির বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে পুলিশের হাতে দেখা গিয়েছে বৈদ্যুতিক ঢাল৷ অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামলানোর উপযুক্ত এই ইলেকট্রিক শিল্ড৷ আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি হয়েছে এই ঢাল৷ যদিও বিদেশে অনেক আগে থেকেই এর ব্যবহার হয়ে আসছে৷

বৈদ্যুতিক ঢাল কেমন বস্তু

এই ইলেকট্রিক শিল্ড বা বৈদ্যুতিক ঢালের মাধ্যমে মানুষের গায়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়া যায়৷ পুলিশের হাতের সঙ্গে বাধা থাকে বিশেষ ধরনের এই ঢাল৷ তাতে ব্যাটারির সাহায্যে ইলেকট্রিক সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে৷ কোনও ব্যক্তির গায়ে এই শিল্ড ঠেকিয়ে লাল বোতাম টিপলেই ইলেকট্রিক শকে কাবু হয়ে বিক্ষোভকারীরা। কোনও বিক্ষোভকারী বেপরোয়া হয়ে উঠলে, তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এই শিল্ড বিশেষ উপযোগী বলে দাবি পুলিশের৷

পাঁচ সেকেন্ডের বেশি সময় বিক্ষোভকারীর গায়ে ঠেকিয়ে রাখলে ওই ব্যক্তি সামনের দিকে এগোনোর শক্তি হারিয়ে ফেলবেন৷ এমনকি মাটিতেও লুটিয়ে পড়ে যেতে পারেন।

এই প্রথমবার কলকাতায় বৈদ্যুতিক ঢাল

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে পুলিশ এই ধরনের শিল্ড ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু রাজ্যে এই প্রথম ইলেকট্রিক শিল্ড দেখা গেল কলকাতা পুলিশের হাতে৷ যদিও শেষ পর্যন্ত এই নয়া হাতিয়ার ব্যবহার করা হল না পুলিশের৷ হাতে গোনা কয়েকজন পুলিশের হাতে ছিল এই ঢাল৷ বুধবার বিজেপির মিছিল লালবাজারের দিকে যেভাবে একসঙ্গে এগোতে থাকে তাতে ওই হাতিয়ার ব্যবহার করার সুযোগই পেল না পুলিশ৷

এদিন লালবাজার অভিযানে বিজেপিকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ প্রথমে জল কামান ব্যবহার করে৷ পরে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে৷ মূলত লালবাজার অভিযানকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে৷ এছাড়া বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, ফিয়ার্স লেন ক্রসিংয়ে একই অবস্থা৷ অভিযোগ পুলিশের উপর ইট বৃষ্টি শুরু হলে, পুলিশ পাল্টা লাঠিচার্জ করে৷