চেন্নাই: স্বাধীন ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদী ছিলেন একজন হিন্দু৷ তার নাম নাথুরাম গডসে৷ মনে করেন অভিনেতা ও মাক্কাল নিধি মইয়াম দলের প্রধান কমল হাসান৷ প্রতিবাদে সরব বিজেপি৷ মুসলিম ভোটারদের মন জয়েই এই ধরণের কথা বলছেন হাসান৷ দাবি বিজেপির৷

রবিবার তামিলনাড়ুর আভারুকুরিচি বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচার করেন কমল হাসান৷ সেখানেই তিনি বিতর্কিত মন্তব্যটি করে বসেন৷ তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীন ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদী একজন হিন্দু৷ তার নাম হল নাথুরাম গডসে৷’’ পরে সভায় তিনি বলেন, ‘‘এখানে মুসলিম ভোট বেশি৷ তাই মনে হতেই পারে আমি ভোটের জন্য একথা বলছি৷ কিন্তু একেবারেই তা নয়৷ আমি এটা মহত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে বলছি।’’ দাবি করেন অভিনেতা থেকে নেতা হওয়া কমল হাসান৷

আরও পড়ুন: বিজেপি কেন শীলা দীক্ষিতের প্রশংসা করেছে, প্রশ্ন দিল্লিতে

১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি দিল্লির ‘বিড়লা হাউস’-এ বিকেলের প্রার্থনায় যাওয়ার সময়ে মহাত্মা গান্ধীকে সামনে থেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে নাথুরাম গডসে৷ দিল্লির লাল কেল্লায় গান্ধী হত্যা মামলার বিচার চলাকালীন গডসে নিজেও এই হত্যার কথা স্বীকার করে নেন৷ দেশভাগের জন্য গান্ধী-ই দায়ী বলে মনে করতে তিনি৷ সেই বিশ্বাস থেকেই এই খুন বলে জানান গডসে৷ ১৯৪৯ সালের ১৫ই নভেম্বর গডসের ফাঁসি হয় পাঞ্জাবের আম্বালা জেলে।

কমল হাসান এদিন গান্ধীকে যে নৃশংস কায়দায় খুন করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন৷ বলেন, ‘‘চিন্তা করুন সেই ভয়াবহতার কথা৷ তাঁকে কেন সন্ত্রাসবাদী বলা যাবে না?’’ এরপরই তিনি দেশের মধ্যে সর্বধর্মের সমানাধিকার ও শান্তির কথা তুলে ধরেন৷ নিজেকে ‘ভালো ও সৎ ভারতীয়’ বলেও দাবি করেন৷

আরও পড়ুন: তৃতীয় শক্তির জল্পনা বাড়িয়ে আজ সাক্ষাৎ রাও-স্ট্যালিনের

আরএসএসের সদস্য ছিল গডসে৷ আবার আরএসএস-ই বিজেপির ধাত্রী দল৷ কমল হাসান নাথুরাম গডসেকে নিয়ে বলায় প্রতিবাদে সরব হয়েছে গেরুয়া বাহিনী৷ মুসলিম তোষণের বিষয়টিকে সামনে এনে আত্রমণ করা হয়েছে মাক্কাল নিধি মইয়াম দলের প্রধানকে৷ তামিলনাড়ুর বিজেপি নেতা তামিলিসাই সুন্দররাজন বলেন, ‘‘এইসব কথা বলে দেশে আগুন জ্বালাতে চাইছেন কমল হাসান৷’’ প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চান, কেন শ্রীলঙ্কার বিস্ফোরণ নিয়ে কিছু বলছেন না ওই অভিনেতা? অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময়ের ঘটনাকে সামনে এনে যাই প্রমাণ করতে চান না কেন, তা সফল হবে না বলেই মনে করছে পদ্ম শিবিরের নেতারা৷

এর আগে ২০১৭ সালে ‘হিন্দু সন্ত্রাসবাদী’ কথা বলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন। তখন বিজেপি এবং অন্যান্য হিন্দু সংগঠনগুলো কমল হাসানের সমালোচনা করেছিল। কমল হাসানের ‘হে রাম’ সিনেমা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল৷ এছাড়া মুসলিম কয়েকটি সংগঠন বেঁকে বসায় বিশ্বরূপম মুক্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল৷ পরে ছবির কিছু অংশ বাদ দিতে সম্মত হওয়ার শর্তে সেই সিনেমা সর্বসমক্ষে আসে৷ বিষয়টিকে সামনে এনে বিজেপির প্রশ্ন কেন সেদিন আপোস করেছিলেন তিনি?