লে: পূর্ব লাদাখের তিনটি ফ্ল্যাশপয়েন্ট থেকে সেনা সরিয়েছে চিন। জানা যাচ্ছে, সীমান্তে শান্তি ফেরাতে এবার প্যাংগং লেক অঞ্চল থেকে সেনা সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে সূত্র মারফত জানতে পেরেছে, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সেনারা ফিংগার-৪ থেকে ফিংগার-৫ সরে গিয়েছে। ভারতের সেনাও ফিংগার-৩-এর দিকে কিছুটা সরে গিয়েছে বলে জানাচ্ছে ওই সংবাদমাধ্যম।

সরকারি সূত্রের খবর, “সংঘর্ষ এড়াতে অন্যান্য জায়গার মতন এখানেও যৌথভাবে সেনা সরানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি এও জানা গিয়েছে, প্যাংগংয়ে ফিংগার-৪ সাময়িকভাবে একটি ‘নো পেটড়লিং জোন’ হবে। কর্পস কম্যান্ডার স্তরে কিছুদিনের মধ্যেই আবারও মুখোমুখি হতে চলেছে, মূলত প্যাংগং লেক সমস্যার সমাধান খুঁজতে এই প্রযালোচনামূলক আলোচনা হবে।

এখনও অবধি তিনবার কর্পস কম্যান্ডারস্তরে আলোচনা হয়েছে। জুনের ৩০ তারিখেই যৌথভাবে সংঘর্ষ থেকে পিছু হটতে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছিল। এই আলোচনার পরে ৭২ ঘণ্টার একটি ভেরিফিকেশন পিরিয়ড নেওয়ায় সম্মতি জানানো হয়।

ভারত দাবি জানিয়েছে, ফিংগার-৮-এ লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল ৮ কিলোমিটার সরে গিয়েছে ফিংগার-৪ অবধি। চিন সেনা ফিংগার-৪-এ বাঙ্কার এবং নজরদারির জন্য পোস্ট তৈরি করেছে এই দুই পয়েন্টের মাঝে। ফিংগার-৪ সবসময় ভারতের আওতায় ছিল এবং ফিংগার-৫ দিকে এগোতে গেলে ভারতীয় সেনাদের আটকানো হত। চিনের তরফে গালওয়ান, হট স্প্রিংস, গোগরা এই তিনটি ফ্ল্যাশপয়েন্ট থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার। অন্ততপক্ষে ২ কিলোমিটার পিছু হটে গিয়েছে লাল চিনের সেনারা।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল জুলাই মাসের ৫ তারিখ চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ওয়াইয়ের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। লাইন অফ কন্ট্রোল এবং গালওয়ান উপত্যকার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ের পরিস্থিতি পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

আবারও শুক্রবার মুখোমুখি বসছে ভারত-চিন। সোমবারই, লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার খবর এসেছে। চিনের সেনাবাহিনী সরে গিয়েছে বলে আগেই খবর এসেছে। এবার সেই কথা স্বীকার করেছে চিন।

চিনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের বিদেশমন্ত্রী ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ‘গত ৩০ জুন কমান্ডার লেভেলের তৃতীয় বৈঠকের পর সরে গিয়েছে দুই দেশের সেনা।’ ভারত ও চিন যৌথভাবে সংঘর্ষ এড়ানোয় সম্মতি প্রকাশ করলে বর্তমানে এই বিধিনিষেধ লাগু করা হয়েছে।

এলএসি নিয়ে সংঘর্ষ এঁরাতে দুই দেশই গালওয়ান নদীর চত্বরের ৩ কিলোমিটার এলাকায় কিছুটা বাফার জোন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ভারতের তরফে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে চিন সেনা সরিয়েছে কিনা সে বিষয়টিও প্রতিনিয়ত নজর রাখা হয়েছে।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব