স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কথামতোই কাজ৷ তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদ বা টিএমসিপি-র নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য আগেই জানিয়েছিলেন, পুরানো কমিটি ভেঙে নতুন করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও ২৩টি জেলা কমিটি গড়া হবে৷

সেইমতো বুধবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য নতুন কমিটির কথা ঘোষণা করে দিলেন৷ নতুন করে গড়া কমিটিতে কারা কারা জায়গা পাচ্ছেন তাও তিনি ঘোষণা করলেন৷ তবে এদিন মোট ১৭টি জেলার তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়৷

তৃণাঙ্কুরের দাবি, ‘‘আমি নতুন এসেছি৷ কিছু না দেখে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে চাইছি না৷ বাকি জেলাগুলির বিষয়ে জেনে-বুঝে সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেব৷’’ নতুন রাজ্য সভাপতির এদিনই ছিল প্রথম সাংবাদিক বৈঠক৷

রাজ্য কমিটির ক্ষেত্রে খুব ছোট কমিটি গড়েছেন তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য৷ সেই তালিকায় রয়েছেন মাত্র পাঁচ সাধারণ সম্পাদক ও তিনজন সম্পাদক৷ রাজ্য কমিটি এত ছোট করা হল কেন? এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজ্য সভাপতির দাবি, ‘‘এটাই চূড়ান্ত নয়৷ কমিটিতে আরও সদস্য নেওয়া হবে৷’’

তৃণাঙ্কুরের ঘোষিত রাজ্য কমিটিতে নাম রয়েছে এমন অনেকেই আবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনওভাবেই পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত নন৷ এক্ষেত্রে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অবস্থা এসএফআই ও অন্য বাম ছাত্র সংগঠনগুলির মতোই৷

ফাইল ছবি

অথচ, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, ছাত্র রাজনীতি করতে হলে ছাত্র হতে হবে৷ তাহলে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন? তৃণাঙ্কুরের বক্তব্য হল, দলনেত্রী পুরানোদের প্রাধান্য দিতে বলেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘সব পুরানোদের বাদ দিলে চলবে কী করে? পুরানোদের অভিজ্ঞতার দাম তো দিতে হবে৷ অভিজ্ঞ হিসাবে গাইড করার জন্য কাউকে তো আমাদের পাশে রাখতে হবে৷’’

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে উঠে এসেছিল ছাত্র ভরতিতে তোলাবাজির প্রসঙ্গও৷ যেহেতু প্রথম সাংবাদিক বৈঠক, মওকা বুঝে সাংবাদিকরা চেপে ধরেন তৃণাঙ্কুরকে৷ কলেজে কলেজে তোলাবাজি রুখতে তিনি কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন জানতে চাওয়া হয়৷

তৃণাঙ্কুরের সাবধানী জবাব, ‘‘আমি কলেজগুলি ঘুরে ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে খোঁজ নিয়ে জেনেছি প্রত্যক্ষভাবে তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত কেউ এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নয়৷’’ কিন্তু যদি তাই হয় তবে জয়া দত্তকে সরতে হল কেন? উত্তর মেলেনি৷ সাংবাদিক বৈঠকে উঠেছে কলেজ সংসদ নির্বাচনের সময় বহিরাগত সমস্যার কথাও৷

তবে তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি শক্ত হাতে হাল ধরবেন বলেই মনে করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব৷ তৃণমূল কংগ্রেসের এক শীর্ষস্থানীয় নেতার কথায়, তৃণাঙ্কুরের উপর ভরসা আছে বলেই ওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷ আশা করি ও আমাদের আশাহত করবে না৷