নয়াদিল্লি:গ্রামাঞ্চলে ভোগব্যয় সংক্রান্ত এক দুরবস্থার ছবি উঠে এসেছে সমীক্ষা রিপোর্টে এবং সেই রিপোর্ট প্রকাশ আটকে দিয়েছে কেন্দ্র ৷ কর্মসংস্থান ও বেকারত্বের পরিসংখ্যানের পর এ বার এক নতুন তথ্য উঠে এল যা অস্বস্তি বাড়াচ্ছে মোদী সরকারের ৷ শুক্রবার একটি ব্যবসায়িক দৈনিক জানিয়েছে, জাতীয় নমুনা সমীক্ষায় একটি অপ্রকাশিত রিপোর্টের কথা ৷ যা থেকে জানা যাচ্ছে , গত চার দশকে এই বারই প্রথম গ্রামের মানুষের ভোগব্যয় কমে গিয়েছে।

সংবাদপত্রটির প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গড় মাসিক ব্যক্তিগত ভোগব্যয় ২০১১-১২ অর্থবর্ষের তুলনায় ৩.৭ শতাংশ কমে গিয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে৷ ২০১১-১২ অর্থবর্ষে ব্যক্তিগত গড় মাসিক ভোগব্যয়ের ছিল ১৫০১ টাকা। সেটাই ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে কমে হয়েছে ১,৪৪৬ টাকা। গ্রামাঞ্চলে ওই ভোগব্যয় যেমন কমেছে ৮.৮ শতাংশ তেমনই শহরাঞ্চলে তা কমেছে ২ শতাংশ। গোটা বিষয়টা রীতিমতো অর্থনীতিবিদদের কাছে উদ্বেগের বিষয় কারণ খাদ্যপণ্যের উপরেও খরচ কমছে। দেখা গিয়েছে দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্য ছাড়া গ্রামাঞ্চলের মানুষ বাকি প্রায় সব রকমের খাদ্যপণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছেন।

শুধু তাই নয় ওই প্রতিবেদন সামনে আসায় কেন্দ্রীয় তথ্য ও পরিসংখ্যান মন্ত্রক তড়িঘড়ি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তথ্যের গুণগত মানের জন্য জাতীয় নমুনা সমাক্ষীর ভোগ ব্যয় সমীক্ষা (কনজিউমার এক্সপেনডিচার সার্ভে) ২০১৭-১৮ এই বছরে প্রকাশ করা হবে না। তাছাড়া আগামী দু’বছর ওই সমীক্ষা করা সম্ভবপর কিনা তা সেটাও খতিয়ে দেখবে সংশ্লিষ্টমন্ত্রক ৷

প্রতি বছর এই কনজিউমার এক্সপেনডিচার সার্ভের মাধ্যমে দেশের পরিবারগুলির ভোগব্যয়ের হিসাবে কত টাকা মাসে মাথাপিছু খরচ করে তার একটা আনুমানিক হিসাব পাওয়া যায়। আর সেই তথ্য থেকেই গরিব, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলির সামাজিক বণ্টন জানতে পারা যায়।

সরকার জানিয়েছে, এনএসএসওর ২০১৭-১৮ সমীক্ষা রিপোর্ট পরীক্ষা করে ভোগের ধরন, ভোগের পরিবর্তন ইত্যাদিতে বিভিন্ন স্তরে বিস্তর ফারাক নজরে এসেছে। ফলে দেশে পণ্য ও পরিষেবার উৎপাদনের তথ্যের সঙ্গেও ওই রিপোর্টের কোনও মিল নেই ৷