সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : গাছেদের প্রাণ আছে তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আর ‘শরীর’ থাকলে তা খারাপ হতেই পারে। মানুষ থেকে পশু সবার জন্যই রয়েছে হাসপাতাল। কিন্তু যারা প্রাণীকুলের বেঁচে থাকার অন্যতম উপাদান অক্সিজেনের এত যোগান দিয়ে চলেছে সেই গাছেদের জন্য নেই কোনও হাসপাতাল। ‘শরীর’ খারাপ হলে ভরসা হাতুড়ে ডাক্তারি। তাতে গাছ বাঁচলে বাঁচল। না হলে , ও মোলো তো কী হল টাইপ চিন্তাভাবনা’। গাছেদের জন্য ভেবেছে যুবক। বানিয়ে ফেলেছে গাছেদের হাসপাতাল।

সমগ্র জেলা , রাজ্য তথা দেশে প্রথম গাছেদের হাসপাতাল। এমন অভিনব ভাবনায় বর্ধমানের পাল্লা রোড পল্লীমঙ্গল সমিতি। সংগঠনটি জানাচ্ছে, ‘আমরা হাসপাতালের কথা জানি, অসুস্থ হলে আমরা সেখানে যাই , আমরা পশু হাস্পাতালের কথাও শুনেছি , আমরা জানি জীবন মানুষের সাথে সাথে সাথে পশু পাখি জীব জন্তু সহ গাছের ও আছে , কিন্তু তাদের জন্য নেই কোনো হাসপাতাল ! এমন কি ব্যবস্থা আছে কোথাও যেখানে আমার বাড়ির ছোট চারা গাছটা একটু ঝিমিয়ে গেলে তাদের কাছে রেখে আবার সতেজ করে বাড়ি নিয়ে আসব ; নেই , কোথাও নেই ব্যবস্থা ; সরকারি কৃষি আধিকারিক কিংবা গাছমাস্টারের মতন কিছু মানুষের কল্যাণে হয়তো কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতামত পেতে পারেন নিজের গাছ নিয়ে কিন্তু গাছের ডাক্তার সহ হাস্পাতালের ব্যবস্থা এই প্রথম বার সারা দেশে’।

তাঁরা জানিয়েছেন, ‘আশা করি সবাইকে উদ্যোগে পাশে পাবো সকলকে। আমাদের এই কাজের অনুপ্রেরণা ও উপদেষ্টা গাছ মাস্টার শ্রী অরুপ চৌধুরী , এছাড়া আমাদের ভলেন্টিয়াররা সদা সচেষ্ট থাকবে কোনও ফোন এলেই সেটার সমাধান করার , এর জন্য দু টি নাম্বার হল ৬২৯৫২৬৩৮৬৮ / ৯০৬৪৯৯৩১৩৬’

মানব জীবনের ন্যায় উদ্ভিদেরও যে জীবন আছে, আছে অনুভূতি শক্তি তা এই জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুই আবিষ্কার করেছিলেন। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় তার এ অবদান বিশ্বদরবারে সে কালে ঝড় উঠেছিল। তারই আবিষ্কৃত এসকোনোগ্রাফ যন্ত্রের মাধ্যমে উদ্ভিদের যে জীবন আছে তা তিনি বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তিনি গবেষণা করে দেখিয়েছিলেন যে উদ্ভিদের উপর বিভিন্ন প্রকার বাহ্যিক প্রভাবকের প্রভাবে ইলেক্ট্রন প্রবাহের ঘটনা ঘটতে পারে। একে এক সময় রাসায়নিক ক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করা হত। তিনি এই ধারণাকে পরবর্তীকালে পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি উদ্ভিদের টিস্যুর উপর মাইক্রোওয়েভের প্রভাব এবং এর ফলে কোষ মেমব্রেনের বিভব পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন। কোষ মেমব্রেনের বিভব বলতে বোঝায় কোষের অন্তঃত্বক ও বহিঃত্বকের ভেতর ঘটিত তড়িৎ বিভবের পার্থক্য (সাধারণত -৪০ মিলিভোল্ট থেকে -৮০ মিলিভোল্ট পর্যন্ত)।

১৯০১ সালে এই বিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন অবস্থায় এবং বিভিন্ন সময়ে কোষ মেমব্রেন বিভবের পর্যবেক্ষণ করে অনুমিত করেন যে উদ্ভিদও প্রাণীর মতো বাহ্যিক প্রভাবকের প্রভাবে সাড়া দিতে সক্ষম, অর্থাৎ তাদের ভেতর কিছু সাদৃশ্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তারা ব্যথা অনুভব করতে সক্ষম, আনন্দ অনুভব করতে সক্ষম, এমনকি স্নেহ অনুভব করতেও সক্ষম। তিনি আরও প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদের একটি সঠিক জীবন চক্র এবং প্রজনন তন্ত্র রয়েছে যা প্রাণীর অনুরূপ। তার এই গবেষণাপত্র তখন লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটিতে স্থান করে নিয়েছিল।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.