স্বাগত ঘোষ: জয়ের পর বাগান অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত বলছিলেন কোচ না হলে কিবু হয়তো স্ট্যাটিস্টিসিয়ান হতেন। কারণ নিজের দলের ফুটবলার তো বটেই, স্প্যানিশ কোচের নোটবুকে থাকে বিপক্ষের সব ফুটবলারদের খুঁটিনাটি তথ্য। যা মোহনবাগানের আই লিগ জয়কে অনেক সহজ করে দিয়েছে।

সত্যিই তো চার ম্যাচ বাকি থাকতে দলকে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন করা কোচের কিছু ইউএসপি তো থাকবেই। আর সবুজ-মেরুনের নয়া স্বপ্নের সওদাগরের অন্যতম ইউএসপি বোধহয় এটাই। যা তাঁকে বসিয়ে দিল টিকে চাটুনি, সুব্রত ভট্টাচার্য্য, সঞ্জয় সেনদের সঙ্গে একাসনে। মিথ ভেঙে ময়দানের প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে মোহনবাগানকে ভারতসেরা করলেন স্প্যানিয়ার্ড।

আরও পড়ুন: মোহনবাগানের ভারতসেরা হওয়ার সেলিব্রেশন

স্পেনের প্রথমসারির ক্লাব ওসাসুনার সহকারী কোচ, এছাড়াও স্পেন ও পোল্যান্ডের একাধিক ক্লাবে কোচিং’য়ের অভিজ্ঞতা দেখে ২০১৯ মে-তে কিবুকে কোচ করে আনেন বাগান কর্তারা। কিন্তু কলকাতা লিগ আসেনি। গোকুলামের কাছে ফাইনাল হেরে ডুরান্ড রানার্স মোহনবাগান। রব উঠেছিল কিবুকে দিয়ে হবে না। আস্থা রেখেছিলেন দেবাশিস-টুম্পাইরা। আর সবচেয়ে বেশি আস্থা সম্ভবত নিজের প্রতি রেখেছিলেন কিবু।

অতীতে করিম বেঞ্চেরিফা, ট্রেভর মর্গ্যান কিংবা হালফিলে আলেজান্দ্রো গার্সিয়া। বিদেশি কোচ হিসেবে ময়দানে দু’প্রধানের হয়ে আই লিগে রানার্স হওয়ার নজির রয়েছে অনেকের। কিন্তু অচলায়তনের সুভদ্র হয়ে উঠতে পারেননি এদের কেউ। পারলেন কিবু।

আরও পড়ুন: Breaking: বাগানে বসন্ত, আইলিগ চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান

পাস, পাস আর পাস এই মন্ত্রেই দীক্ষিত হয়ে বাজিমাৎ করে গেল এবারের মোহনবাগান। ২০০৯-১০ চার ম্যাচ বাকি থাকতে লিগ জিতে নিয়েছিল আর্মান্দো কোলাসোর ডেম্পো। বিপক্ষের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে দশ বছর আগে ডেম্পোর সেই নজির স্পর্শ করল কিবুর সাজানো বাগান।

গঞ্জালেস, মোরান্তে, সাহিল, শুভদের এক সুঁঁতোয় বেঁঁধেছেন স্প্যানিশ বস। যার রাশ কখনও আলগা হয়নি। তৈরি রেখেছিলেন রিজার্ভ বেঞ্চ। সঠিক ফুটবলার নির্বাচনের পাশাপাশি উড়িয়ে এনেছিলেন ফিজিক্যাল ট্রেনার পাউলিয়াসকে। তেল খাওয়া মেশিনের মতো ছোটা দলটার পিছনে যার অবদান অনস্বীকার্য। চামোরোর বদলি হিসেবে সঠিক সময় পাপা দিওয়ারা কিংবা কলিনাসের বদলি হিসেবে তুরসুনভ। কিবু যাই করেছেন সোনা ফলেছে।

আরও পড়ুন: দুরন্ত উইলিয়ামস, রুদ্ধশ্বাস জয়ে ফাইনালে এটিকে

সবশেষে রইল নিজের ফুটবলারদের প্রতি অগাধ আস্থা। ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে চার্চিলের কাছে ২-৪ গোলে হেরেও জোর গলায় স্প্যানিশ কোচ বলেছিলেন আমরা ভালো ফুটবল খেলেছি। ফলাফল আমাদের বিপক্ষে গিয়েছে। ওই শেষ। এরপর লিগে ১৪ ম্যাচ অপরাজিত বাগান। হোলির দিন গঙ্গা পাড়ের ক্লাবে বসন্ত আনা কিবু তাই ময়দানি মিথ ভাঙার নায়ক। সবুজ-মেরুন জনতার ‘হ্যামিলনের বাঁঁশিওয়ালা’।

দু’প্রধানের হয়ে অতীতে আই লিগ/ জাতীয় লিগ জয়ী কোচ:

টিকে চাটুনি- (মোহনবাগান ১৯৯৭-৯৮)

সুব্রত ভট্টাচার্য্য- (মোহনবাগান ১৯৯৯-২০০০)

মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য্য- (ইস্টবেঙ্গল ২০০০-০১)

সুব্রত ভট্টাচার্য্য- (মোহনবাগান ২০০১-০২)

সুভাষ ভৌমিক- (ইস্টবেঙ্গল ২০০২-০৩)

সুভাষ ভৌমিক- (ইস্টবেঙ্গল ২০০৩-০৪)

সঞ্জয় সেন- (মোহনবাগান ২০১৪-১৫)