কলকাতা : করোনার শৃঙ্খল (Corona Chain) ভাঙতে রাজ্য প্রশাসন রবিবার থেকে ৩০ মে পর্যন্ত “প্রায় লকডাউন” ঘোষণা করেছে । সময় নির্ধারণ করে সমস্ত পরিষেবাকে নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে এক পক্ষকাল । লক্ষ্য রাজ্যের মানুষদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে করোনার শৃঙ্খলাকে ভাঙা। কিন্তু যাদের জন্য এই ব্যবস্থা সেই মানুষের মধ্যে এখনও হয় করোনা ভীতি সঠিকভাবে প্রভাব ফেলতে পারেনি না হলে মানুষ চাইছে না নিয়মে পড়তে। আর তার ফলে “প্রায় লকডাউন”-এর পর ব্যাপকভাবে নিয়ম ভাঙার ঘটনা ঘটেছে রাজ্য জুড়ে। তবে পুলিশ(Police)  প্রথম দিন থেকেই আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। এদিন সাকুল্যে ৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৫৯টি গাড়ি। কেউ সরকারি নির্দেশিকা মানেনি।

রবিবার প্রথম দিন থেকে আগামী ১৫ দিন সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বাজার, দোকান খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি নির্দেশকে গুরুত্ব না দিয়ে রবিবার জেলায় জেলায় নিয়ম ভাঙতে দেখা গেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর শহরে সকাল ১০টার পরেও খোলা ছিল বেশকিছু বাজার। এর ফলে নিয়মভঙ্গের অভিযোগে ৬৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রবিবার সকাল দশটা বাজতেই খড়গপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে নামে পুলিশ। খড়গপুরের এসডিপিও (SDPO) দীপক সরকারের নেতৃত্বে চলে ব্যাপক অভিযান। সকাল ১০টার পরেও দোকান খুলে রাখার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হন বেশ কয়েকজন ক্রেতাও । পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিন মোট ৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে নিয়ম ভাঙার জন্য । পুলিশের এই ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছে শহরের সচেতন নাগরিকরা।

তবে শুধু জেলাতেই নয়, নিয়ম ভাঙতে দেখা গেছে কলকাতার বিভিন্ন বাজারের বিক্রেতা ও ক্রেতাদেরও। রবিবার সকাল থেকে বৈঠকখানা বাজারে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় নজরে এসেছে । সকাল ৯টা ৫৫ নাগাদ মুচিপাড়া থানার আধিকারিক সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পাঁচজনের একটি দল বৈঠকখানা বাজারে অভিযান চালায় । ৯টা ৫৮ মিনিট থেকে বাজার বন্ধ করার জন্য মাইকিং শুরু করে পুলিশ। সকাল ১০.০৫-এর মধ্যে ফাঁকা করে দেওয়া হয় বাজার চত্বর। সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় জানান, আগামী পনেরো দিন এভাবেই বাজার বন্ধের অভিযান চালানো হবে।

কলকাতার মানিকতলা বাজারেও একই রকমের ভিড়ের ছবি এদিন নজরে এসেছে ৷ মুখে মাস্ক থাকলেও দূরত্ববিধি মানা হয়নি বলে অভিযোগ এসেছে। নিউটাউনের মিশন বাজারেও নজরে পড়েছে উপচে পড়া ভিড় । রবিবার ১০টার পরেও বাজার খোলা রাখায় অভিযানে নামে পুলিশ। লাঠি উচিয়ে বাজার বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে শ্যামবাজার৷ তুলনামূলক ভিড় কম ছিল৷ শনিবার সন্ধেতেই বেশিরভাগ মানুষ বাজার সেড়েছেন বলে সূত্রের খবর৷

শহর লাগোয়া সোনারপুর, বারুইপুরেও একই ভিড়ের ছবি চোখে পড়েছে । রবিবার সকাল থেকে বারুইপুরের কাছারি বাজারে ভিড় জমান প্রচুর মানুষ। সবজি বাজারে ভিড় কিছুটা কম থাকলেও, মুদিখানার দোকানে ভিড় ছিল খুব বেশি । মণ হয়নি কোনও দূরত্ববিধি। ব্যবসায়ীদের মুখে মাস্ক ছিল না। অন্যদিকে বারুইপুর থানা এলাকার বহু বাজার ১০টার পরেও খোলা থাকায়, পুলিশ লাঠি চালাতে বাধ্য হয় । বারুইপুরের এসডিপিও (SDPO) অভিষেক মজুমদার এবং আইসি (IC) দেবকুমার রায়ের নেতৃত্বে অভিযানে নামে পুলিশ বাহিনী। বারুইপুরের কাছারি বাজার, হাসপাতাল বাজার, পুরাতন বাজার ও ফুলতলা বাজার থেকে মোট ১২ জন ব্যবসায়ীকে নিয়ম না মানার জন্য পুলিশ রবিবার গ্রেফতার করা হয়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.