তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে যুগ্ম প্রথম বাঁকুড়ার অনিমা গরাই৷ মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থানাধিকারী৷ প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৬৷ অনিমার হাত ধরেই উজ্জ্বল হল জঙ্গলমহল বাঁকুড়ার রানীবাঁধ হাইস্কুলের নামও৷ বহু প্রতিকূলতাকে পাস কাটিয়ে জীবনের মূল স্রোতে হাঁটতে হয় এই জঙ্গলমহলের মানুষকে৷ সেখান থেকে অনিমার মত মেয়ে সত্যিই কন্যারত্ন৷

বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এলাকার এই মেধাবী ছাত্রীর সাফল্যে খুশি পাড়া প্রতিবেশী থেকে আত্মীয়স্বজন৷ গর্বিত স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারাও৷ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফে টিভির পর্দায় অনিমা গরাইয়ের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কৃতী এই ছাত্রীর বাড়িতে ভিড় জমতে শুরু করেছে৷ অভিনন্দনের বন্যায় ভাসছে রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে যুগ্ম প্রথম এই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী৷

খুব একটা স্বচ্ছল পরিবারের মেয়ে নয় অনিমা৷ বাবা মধুসূদন গরাই চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত৷ যা আয় তাতে সংসার চালিয়ে মেয়ের পড়াশোনা করানো অনেকটাই কষ্টসাধ্য৷ মেয়ের ভাল রেজাল্টেও তাই চিন্তার ভাঁজ এই কৃতীর মা-বাবার কপালে৷ এবার তো উচ্চশিক্ষার পালা৷ কিন্তু অর্থ আসবে কোথা থেকে!

রানীবাঁধের ঘাঘরা হলুদকানালী গ্রামের বাসিন্দা অনিমা৷ খুব কম কথা বলে৷ পড়াশোনায় চিরকালই ভাল৷ কিন্তু তা বলে এতটা ভাল ফল হবে তা আশা করেনি এই কৃতী৷ অনিমার কথায়, ‘‘ভেবেছিলাম আর্টসের বিষয়৷ সেভাবে হয়তো খাতা দেখাই হবে না৷’’ ভূগোল অনিমার পছন্দের বিষয়৷ তা নিয়েই কলকাতার কোনও কলেজে সাম্মানিক স্তরে পড়াশোনা করতে চায় সে৷ কলেজে অধ্যাপনা করা তাঁর স্বপ্ন৷

তার এই সাফল্যের পিছনে বাড়ির মা, বাবা, ঠাকুরমার অবদান তো রয়েছেই৷ সমানভাবে কৃতজ্ঞ তার স্কুলের শিক্ষকদের প্রতিও৷ টেস্ট পরীক্ষার পরেও তাঁরা সমানভাবে সাহায্য করেছে তাকে৷ এক প্রশ্নের উত্তরে জঙ্গলমহলের এই সোনার মেয়ে জানায়, ‘‘ভালো নম্বর হবে আশা করেছিলাম। তা বলে একেবারে মেয়েদের মধ্যে প্রথম এমনটা কোনওদিন আশা করিনি৷’’

বাড়িতে টেলিভিশন সেট নেই৷ ইন্টারনেটের এত রমরমাও নেই এলাকায়৷ তবে নিজের সাফল্যের খবরটা জানলে কী করে! উত্তরে অনিমা জানাল, ‘‘আমাদের বাড়িতে তো টিভি নেই। পাশের বাড়ির টিভিতে নিজের নামটা শুনি। প্রথমে যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস হচ্ছিল না৷ পরে একের পর এক ফোন আসতে শুরু করে৷ সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বাড়িতে আসেন৷ তখন পুরো বিষয়টা আমার কাছে পরিষ্কার হয়৷’’

এত সাফল্যের পরও চিন্তা ভিড় জমাচ্ছে এই কৃতীর মাথায়৷ উচ্চশিক্ষার জন্য যে অনেক খরচ৷ ইতিমধ্যেই এই মেধাবী ও তার বাবা বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থার কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন৷ সকলে এগিয়ে এলে ঠিক একটা না একটা রাস্তা বের হবে, বিশ্বাস এই কৃতীর৷