স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ফের সক্রিয় বিজেপি কর্মীর বাড়ি লক্ষ্য করে চললো গুলি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এলেন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নৈহাটি থানার পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে এই গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরের উত্তর প্রসাদ নগর এলাকায়।

অভিযোগ সক্রিয় বিজেপি কর্মী বিপুল সিংয়ের বাড়ির সামনে পরপর চার থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। এই গুলি চালানোর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়৷ বিজেপির কর্মী বিপুল সিং এর অভিযোগ তাকে উদ্দেশ্য করেই তার বাড়ির সামনেই গুলি চালিয়েছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। বেশ কিছু দিন ধরেই তাকে পিস্তল দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছিল এলাকার তৃণমূল কর্মীরা বলে অভিযোগ বিপুল বাবুর।

এই ঘটনার পর বুধবার সকালে নৈহাটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থল আসে৷ বিপুল বাবুর বাড়ির সামনে পড়ে থাকা গুলির খোল উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন : বাংলায় নাগরিকপঞ্জীকরণ নয়, বিধানসভায় প্রস্তাব আনছে তৃণমূল-বাম ও কংগ্রেস

ওই বিজেপি কর্মী এদিন পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন যে “আমাকে বেশ কিছু দিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। বারবার পুলিশকে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। এখানে পুলিশ সম্পূর্ণ ভাবে তৃণমূলের দালালে পরিণত হয়েছে ,  অস্ত্র নিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমাকে হুমকি দিচ্ছিল সেটাও প্রশাসন কে জানিয়েছি বহুবার কিন্ত সেই অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও নৈহাটি থানার পুলিশ কোন কিছু করেনি।”

তবে এলাকার তৃণমূলের হালিশহর পৌরসভার কাউন্সিলর কল্পনা বিশ্বাস জানান, কোন গুলির আওয়াজ শোনা যায়নি। নিজেরাই ঝামেলা করে তৃণমূলের উপর দায় চাপাতে চাইছে আর তৃণমূল কংগ্রেসকে বদনাম করার চেষ্টা করছে৷ তবে এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।

আরও পড়ুন : মমতার উদ্যোগে বউবাজারের ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি মেট্রো

এই ঘটনা জানার পর বিজপুরে বিজেপি বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় ওই বিজেপি নেতা বিপুল সিংয়ের বাড়ি যান। এদিন শুভ্রাংশু রায় বলেন যে “পুলিশ এখন তৃণমূলের হার্মাদ হিসাবে কাজ করছে৷ তাই পুলিশ এখানে এসে বিপুল সিং ও এলাকাবাসীদের এই গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে বেশি কাউকে বা মিডিয়াকে জানাতে নিষেধ করে গেছে। এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট যে এলাকার আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সম্পূর্ণ ব্যর্থ।”

এই গুলি চালানোর ঘটনা সম্পর্কে এলাকার কাউন্সিলরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় বলেন “এই এলাকার কাউন্সিলর যখন গুলির কোনও শব্দ পাননি, তখন তার উচিৎ ভালো কানের ডাক্তার দেখানো। তার জন্যই এই এলাকার অবস্থা এরকম৷ এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থাও খুব খারাপ৷ স্থানীয় মানুষ ট্যাক্স দেওয়া সত্ত্বেও সঠিক পরিষেবা পান না। তাই এখানকার কাউন্সিলরের উচিৎ পদত্যাগ করার।”