স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রাক্তনকে নিয়ে মুখে কুলুপ বর্তমানের। এতদিনের সহকর্মী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে কোনও মন্তব্য করলেন না মেয়র-মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বুধবার টক-টু মেয়র অনুষ্ঠানের পর প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।

আরও একটি বিষয় হল, কলকাতা পুরসভার রীতি অনুযায়ী প্রাক্তন মেয়রদের ছবি মেয়রের ঘরে টাঙানো হয়। সেই রীতি অনুযায়ী প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ছবি কবে টাঙানো হবে সে প্রশ্নের উত্তরও বর্তমান মেয়র এড়িয়ে গিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই শোভনের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনায় সরগরম ছিল বঙ্গ রাজনীতি। সেই জল্পনার পাঠ চুকিয়ে বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড়সড় ধাক্কা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র- মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়।

এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন শোভনের ‘বান্ধবী’ তথা অধ্যাপিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বুধবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে মমতার একদা ছায়াসঙ্গী তথা বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের হাত থেকে পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নেন দিদির ‘প্রিয় কানন’। শোভনকে দলে সক্রিয় করতে প্রথমদিকে ফিরহাদ হাকিম খুব চেষ্টা করেছিলেন বলে শোনা যায়। পরে পার্থ চট্টোপাধ্যায় শোভনের মান ভাঙানোর অনেক চেষ্টা করেছিলেন। শোভনের ফ্ল্যাটে গিয়ে তাঁকে বুঝিয়েছিলেন। এমনকি শেষবেলায় শেষ চেষ্টা করেছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁদের সব চেষ্টাই বৃথা গেল।

উল্লেখ্য, উনিশের নির্বাচনের ধাক্কা খাওয়ার পর বুধবার প্রথম সারির এই হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগ মমতা ব্রিগেডের কাছে রীতিমতো বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কিন্তু এব্যাপারে এখনও তৃণমূলের অফিসিয়ালি কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য শুধু বলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশে যে কেউ যে কোনও দলে যেতে পারেন। তবে এটা পরিষ্কার, শোভনের গেরুয়া শিবিরে যাওয়ার পর তৃণমূল আপাতত ভীষণ সাবধানে পা ফেলতে চাইছে।