স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বছর ঘুরলেই পুরসভা নির্বাচন৷ তার প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার কলকাতা পুরসভার সব কাউন্সিলরদের ডেকে তাঁদের আগামী কয়েক মাসের কর্মসূচি ঠিক করে দিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। প্রশান্ত কিশোরের প্রতিনিধির পাশে বসে মেয়র বুঝিয়ে দিয়েছেন, আগামী বছর পুরভোটের আগে জনসংযোগই হচ্ছে মূল অস্ত্র।

এদিন সন্ধ্যায় হরিশ মুখার্জি রোডের ‘জয়হিন্দ ভবন’ কমিউনিটি হলে দলীয় কাউন্সিলারদেরকে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছিল তৃণমূলের তরফে। সেখানে প্রশান্ত কিশোরের বার্তাই মেয়র পৌঁছে দেন কাউন্সিলারদের কাছে। শোভন চট্টোপাধ্যায় ছাড়া এই বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সব কাউন্সিলররা। ছিলেন পরাজিত প্রার্থী কিংবা প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং ব্লক সভাপতিরা।

বৈঠকে মেয়র নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কাউন্সিলারদের তাঁদের নিজ নিজ ওয়ার্ডের চারটি বুথে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি পালন করতে হবে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই চারটির মধ্যে একটি করতে হবে। ওই কর্মসূচিতে চারটি বুথের মধ্যে দু’টির ক্ষেত্রে পাঁচজন করে যে দশজন বিশিষ্টদের সঙ্গে কাউন্সিলারদের যোগাযোগ করতে, তারও তালিকা এদিন তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাকি দু’টির ক্ষেত্রে ১০ জন বিশিষ্টর নাম পরে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

মেয়র জানিয়েছেন, আগামী পুরসভা ভোটের আসন বিন্যাস কী রকম হবে তা দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার জেলাশাসক ঠিক করছেন। আসন বিন্যাস হয়ে গেলেই তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

লোকসভা ভোটে তৃণমূলের খারাপ ফলের প্রভাব যাতে পুরসভা ভোটে না পড়ে তার দাওয়াইও দেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, প্রত্যেক কাউন্সিলর, ব্লক সভাপতিদের মানুষের সঙ্গে আরও বেশি করে মিশতে হবে। তাঁদের সমস্যা জেনে তা সমাধানের কাজ করতে হবে। বস্তি উন্নয়নের দিকে নজর দিতে বলেছেন মেয়র । তিনি কাউন্সিলারদের বলেছেন, বস্তি উন্নয়নে যেন কোনও খামতি না থাকে। বস্তির আলো, জল, নিকাশি সহ সব পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে দিতে হবে। একইসঙ্গে মেয়র জানিয়ে দেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বকেয়া থাকা কাজগুলি ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে। গত বছর প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ফেরত গিয়েছে। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যে মেয়র চান না, তা তিরি পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

তিনি এও বলেছেন, যেগুলো মনে হবে প্রশাসনিক কাজ, যার জন্য সরকারের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন তার জন্য ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার জন্য দুটি করে মোট চারটে ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। এই নম্বরগুলি মূলত প্রশান্ত কিশোরের টিম দেখবে। এখানে ফোন করলেই সব সমস্যা জানানো যাবে বলে জানানো হয়েছে এ দিনের বৈঠকে।

এদিনের বৈঠকে ডেঙ্গু প্রসঙ্গও উঠে আসে। মেযর বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়ায় পাড়ায় ডেঙ্গু সচেতনতা যাত্রা করতে হবে। কাউন্সিলারদের আরও বেশি করে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।