ফিরহাদ হাকিমকে চিঠি

কলকাতা: বাইপাসের রাস্তা খারাপ জানিয়ে নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে চিঠি লিখেছিলেন মিমি। কিন্তু তাতে ফল হল বিপরীত। কলকাতায় সাংবাদিকদের সামনেই মিমির নামে ক্ষোভ উগড়ে দেন নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, চিঠি লিখলেই সাংসদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। রাস্তা সারাইয়ের জন্য সাংসদ তহবিলের টাকা দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত ফিরহাদ হাকিমকে লেখা যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর চিঠি ঘিরে। সেই চিঠিতে মিমি লিখেছিলেন,কামালগাজি ব্রিজ থেকে বারুইপুর পর্যন্ত রাস্তার হাল দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। রোজই নিজের কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় যেতে ওই রাস্তা ব্যবহার করেন তিনি। ফলে নিজেই রাস্তার খারাপ অবস্থা দেখেছেন। প্রতিদিনই সেখানে দুর্ঘটনা লেগে রয়েছে। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। ওই রাস্তাটি দ্রুত মেরামতির জন্যই নগরোন্নয়নমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন মিমি চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন – দীর্ঘদিন থেকে মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত, ধৃত চার পুলিশকর্মী

কিন্তু যেভাবে এদিন ফিরহাদ হাকিম এই চিঠির ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিলেন তাতে অনেকেরই ধারণা চিঠি দেওয়ার ব্যাপার তিনি ভালোভাবে নেননি। তিনি জানান, আগে দেখতে হবে রাস্তা কী অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, এই রাস্তা সারাইয়ের জন্য যাদবপুরের সাংসদের অনেক আগেই শ্রদ্ধেয় বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগী হয়েছিলেন। সেই মতো ডিপিআর তৈরি করে অর্থ দফতরে পাঠানো হয়েছে। অর্থ মঞ্জুর হলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে।.

প্রসঙ্গত ই এম বাইপাসের যে অংশের মেরামতির কথা মিমি বলেছিলেন, সেটি তাঁর সাংসদ এলাকা যাদবপুরের মধ্যেই পড়ে। আবার মিমি চক্রবর্তী যে এলাকার সাংসদ, তার অন্তর্গত বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

কামালগাজি থেকে বারুইপুর পর্যন্ত বাইপাস গড়ে তোলা হয়েছিল বাম জমানায়। সেখানে জমি অধিগ্রহণের জন্য অনেক কাঠখড়ও পোড়াতে হয়েছিল সরকারকে। এব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা ছিল তৎকালীন সিপিএম সাংসদ সুজন চক্রবর্তীরও। এই রাস্তা তৈরি হওয়ার পরই কলকাতা থেকে সড়কপথে বারুইপুর পৌঁছনোর সময় এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছিল। কিন্তু সেই রাস্তার হাল বেহাল। দুই রাস্তার বহুস্থানে পিচ বলে কোনও বস্তু নেই। বহুদিন আগেই ধুয়ে চলে গিয়েছে আদি গঙ্গায়। দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে৷

মিমি জানিয়েছেন, সাংসদ হওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন বাইপাসের এই রাস্তা নিয়ে তাঁর কাছে অভিযোগপত্র ও ই-মেল পাঠাচ্ছেন এলাকার মানুষ৷ এই রাস্তা সারাইয়ের জন্যই চিঠি দিয়েছিলেন মিমি চক্রবর্তী। আর তা নিয়েই ঘটল এত কাণ্ড। ফলে তৃণমূলের অন্দরে বোধহয় কিছুটা চাপেই মিমি চক্রবর্তী।