কলকাতাঃ  অনুমতি ছাড়া আর কোনও পুরসভায় নিয়োগ করা যাবে না। রাজ্য পুর দফতরের অনুমতি ছাড়া তা আর করা যাবে না। ফের একবার সাফ জানিয়ে দিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বহু পুরসভায় মাইনে দিতে গিয়ে নাগরিক পরিষেবা দেওয়া যাচ্ছে না। বাম আমলে বহু নিয়োগ করা হয়েছে। আর তা করা হয়েছে যথেচ্ছ ভাবে আর সেজন্যে বিভিন্ন সময়ে সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় বলে দাবি করেছেন ফিরহাদ হাকিম।

এই সংক্রান্ত নিয়োগ করার সময় পুরদফতরের কোনও অনুমোদনও নেওয়া হয়নি সেই সময় বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু এখনও যদি যথেচ্ছভাবে পুরসভা নিয়োগ করে তাহলে সমস্ত আর্থিক অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ এখন থেকে অনুমোদন ছাড়া আর কোনও নিয়োগ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন কলকাতার মেয়র।

উল্লেখ্য, অর্থ দফতরের অনুমতি ছাড়া কর্পোরেশন এবং পুরসভাগুলি যে সব কর্মী নিয়োগ করেছে তা বেআইনি বলে জানায় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর৷ এই দফতরের সচিব এই মর্মে একটি নির্দেশিকাও জারি করে বলে নবান্ন সূত্রে জানা যায়৷ যাতে বলা হয় স্থায়ী, অস্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সব ক্ষেত্রে অর্থ দফতরের অনুমোদন নিতেই হবে। নিজের খেয়াল খুশিতে ও সিদ্ধান্তে কাউকে নিয়োগ করতে পারবে না পৌরসভা।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের পর ৬০টি কর্পোরেশন ও ১২৫টি পুরসভা কাজের চাপ সামলাতে বেশ কিছু অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল৷ হাওড়াতেই তিন হাজারের বেশি অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল ৷ আর তা হয়েছিল মৌখিক ভাবে ৷কিন্তু আজকের এই নির্দেশিকায় সেটাই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে শুধু মাত্র মুখের কথায় এভাবে কর্মী নিয়োগ ঠিক নয়৷ পাশাপাশি জানান হয়েছে উন্নয়ন খাতের টাকা দিয়ে ওই নিয়োগ করা কর্মীদের বেতন দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পুরসভাকে আর এভাবে উন্নয়নের জন্য টাকা দেওয়া হবে না ৷

বলা প্রয়োজন, কয়েকদিন আগে হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে এভাবে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেই সময় হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তী তাঁকে জানান নেত্রীর কাছ থেকে মৌখিক আশ্বাস পেয়েই ওই অস্থায়ী কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছিল৷ আর সেকথা শুনে আরও রেগে যান মুখ্যমন্ত্রী এবং রথীনকে ভৎসনা করেন৷ জানিয়ে দেন মৌখিক বলে কিছু হয় না৷ লিখিত অনুমতি ছাড়া এই ধরনের অস্থায়ী কর্মী নিয়োগও ঠিক নয়৷

তথ্যসূত্র-বাংলা এক সংবাদমাধ্যম।