ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: উত্তেজনা চরমে৷ বনগাঁ পুরসভা দখলের দাবি করেছে তৃণমূল৷ পুলিশকে তোপ দেগে পালটা গণতন্ত্রের ধ্বংসের অভিযোগ এনেছে বিজেপি৷ অনাস্থা ভোটে বাধা দেওয়ার কারণে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হাইকোর্টে যাওয়ার৷ এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের পুরো ও নগরোন্নয়নমন্ত্রীর দাবি পুলইস কোনও অন্যায় করেনি৷

আস্থা ভোট ঘিরে এদিন সকাল থেকেই চাপা উত্তেজনা ছিল বনগাঁ পুরসভায়। দুপুরের পর বনগাঁ পুরসভার সামনে আসেন দুই বিজেপি কাউন্সিলর কার্তিক মণ্ডল ও হিমাদ্রী মণ্ডল। এক কাউন্সিলরকে অপহরণে অভিযুক্ত দুই বিজেপি কাউন্সিলরের গ্রেফতারিতে এদিনই এক সপ্তাহের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের ‘অর্ডার’ নিয়েই পুরসভা চত্বরে আসেন ওই দুই কাউন্সিলর।

আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রীর উপর ভরসা হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি উস্থি শিক্ষকদের

এরপরই দুই বিজেপি কাউন্সিলরকে পুরসভায় ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুরসভার সামনে দুই কাউন্সিলরকে দেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরাও। অবিলম্বে ওই দুই কাউন্সিলরকে গ্রেফতারের দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি, বনগাঁর পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যের সমর্থনে স্লোগানও দিতে থাকেন তাঁরা। এরপরই হাইকোর্টের অর্ডার নিয়ে আরেকটি প্রস্তাব জমা দেন বিজেপি কাউন্সিলররা৷

বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের ১১ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৯ জনকে পরে পুরভবনে ঢুকতে দেওয়া হলেও একটি ঘরে তালাবন্ধ করে রাখা হয়। তারই মধ্যে আস্থা ভোট শেষ করে ফেলে জোডা়ফুল শিবির৷

তৃণমূলের পালটা দাবি, বেলা ৩টেয় নির্ধারিত সময় পুরসভায় পৌঁছতে পারেননি বিজেপির কাউন্সিলররা। তার পর ১৫ মিনিট নিয়ম মেনে অপেক্ষা করা হয়। তার পরও দেখা মেলেনি বিজেপি কাউন্সিলরদের। এর পর নিয়ম মেনে শুরু হয় ভোটপ্রক্রিয়া। তাতে ১০-০ ভোটে খারিজ হয় অনাস্থা প্রস্তাব। তৃণমূলের ৯ জন ছাড়াও প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন ১ কংগ্রেস কাউন্সিলর।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে দলে যোগ, বিজেপির দুই নেতার মতবিরোধ প্রকাশ্যে

পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ট রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘যে সময়ের মধ্যে মিটিংয়ে ঢোকার কথা সেই সময়ের মধ্যে ঢুকতে হবে। নিশ্চিতভাবে ক্রিমিনালদের ওই মিটিংয়ে ঢোকার অনুমতি দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু, সেই ক্রিমিনালগুলো ঠিক সময় সেখানে ঢোকেনি। তার পর বলছে পুলিশ ঢুকতে দেয়নি। পুলিশ কেন ঢুকতে দেবে না? পুলিশ যদি ঢুকতে দেবে না তাহলে তো ক্রিমিনালগুলোকে অ্যারেস্ট করবে। পুলিশ তো তা করেনি। আদালত ওদের রক্ষাকবচ দিয়েছে। এখন নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা।’’

ভোটের পর থেকেই দুই জোড়াফুলের তরজা অব্যাহত৷ তাতেই ইন্ধন দিল বনগাঁ পুরসভার অনাস্থা ভোট ও ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য৷