স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কাশ্মীরের কুলগামে পাঁচ বাঙালি শ্রমিকের খুনের ঘটনার পর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়াল তৃণমূল৷ মোদীকে বিঁধে ফিরহাদ হাকিমের কটাক্ষ, ‘‘৫৬ ইঞ্চি ছাতি রেখে কী হবে, দেশের নাগরিকদে তো রক্ষাই করতে পারছে না কেন্দ্র সরকার’’।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগামে পাঁচজন বাঙালি শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। পাঁচজনই মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বাহালনগর গ্রামের বাসিন্দা। নিহত পাঁচ শ্রমিকের নাম কামারুদ্দিন শেখ, মুর্সালিম শেখ, মহম্মদ রফিক, নিজামুদ্দিন শেখ, মহম্মদ রফিকুল শেখ।

এরপরই এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইটারে তিনি লেখেন,’ মঙ্গলবার সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় কাশ্মীরে পাঁচ নিরীহ শ্রমিককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এটা পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। আমরা সম্পূর্ণ হতবাক। বর্তমানে কাশ্মীরে কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপ হচ্ছে না। গোটা আইনশৃঙ্খলাই কেন্দ্রীয় সরকার দেখছে। যাতে প্রকৃত সত্য সামনে আসে, তাই এই ঘটনার কড়া তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। তাঁদের থেকে সবিস্তার তথ্য সংগ্রহের জন্য আমরা এডিজি দক্ষিণবঙ্গ শ্রী সঞ্জয় সিং-কে নিয়োগ করছি।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের দিকে আঙুল তোলায় দিলীপ ঘোষও পাল্টা খোঁচা দিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমকে বললেন, ”পেটের দায়ে সীমান্তে গিয়েছেন বাংলার পাঁচ শ্রমিক। বাংলার ছেলেরা হাতে প্রাণ নিয়ে কেন সীমান্তে যাচ্ছেন? তাঁদের এখানে কাজ দিন। ঘটনার দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আমাদের ছেলেদের ঘরছাড়া করেছে রাজ্য সরকার।”

এদিন পাল্টা পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, ‘‘৫৬ ইঞ্চি-৭২ ইঞ্চি ছাতি রেখে কী লাভ! দেশের নাগরিকদেরই তো রক্ষা করতে পারছে না কেন্দ্র সরকার’’। এরইসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, ‘‘সারা দেশে যেভাবে বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রী ব্যথিত। কাউকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, কাউকে গুলি করে মারা হচ্ছে। খুব উদ্বেগের বিষয় এটা। কাশ্মীরে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের কেন সুরক্ষা দেওয়া হবে না?’’