কলকাতা:  তারকেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদের (টিডিএ) পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম। নয়া চেয়ারম্যান হলেন হুগলির প্রাক্তন সাংসদ রত্না দে নাগ। গতকাল সোমবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম টিডিএ’র চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেন। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ফিরহাদ হাকিম এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমি ওই চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দিলাম। নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে রত্না দে নাগকে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে বলে বাংলা ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম।

গত কয়েক বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির এক প্রশাসনিক সভায় কমিশনারেট, একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিক্যাল কলেজ ও তারকেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি, তারকেশ্বর মন্দিরকে ৫ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। সেই সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে যে, নয়া পর্ষদই তারকেশ্বর মন্দিরের দেখভাল করবে। ফিরহাদ হাকিমকে ওই পর্ষদের চেয়ারম্যান ও বেচারাম মান্নাকে ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। তারকেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদের (টিডিএ) চেয়ারম্যান পদে রাজ্যের পুরমন্ত্রীর থাকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

তারকেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদের আওতায় ২৮৮ বছরের শিব মন্দিরটি রয়েছে বলে দাবি করে মমতা প্রশাসনের উপর ক্রমাগত চাপ বাড়াতে থাকে বিজেপি। সেই সময় সুব্রহ্মণ্যম স্বামী তো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিতে ৪৮ ঘন্টার ডেডলাইনও দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এহেন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও হুঁশিয়ারি দেয় বিজেপি।

এই প্রসঙ্গে সেই সময় কৈলাশ বিজয়বর্গীয় জানান, বন্দর এলাকাকে যে ব্যক্তি ‘মিনি পাকিস্তান’ বলে চিহ্নিত করেছেন, তাঁকেই তারকেশ্বর মন্দির বোর্ডের চেয়ারম্যান করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসুও সেই সময় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মসজিদের দৈনন্দিন কাজে মাননীয়া একজন অ-মুসলিমকে বসানোর সাহস দেখাতে পারবেন তো? তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু সাম্প্রদায়িকই নয়, হিন্দুদের ভাবাবেগেও আঘাত করতে পারে।

যদিও সেই সব হুঁশিয়ারিতে কোনও কর্ণপাত পর্যন্ত করেনি রাজ্য প্রশাসন। সেই পদে ফিরহাদ হাকিমকেই রেখে দেওয়া হয়। অবশেষে সেই পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ফিরহাদ হাকিম।