কলকাতা : মঙ্গলবার কলকাতার রাজভবনের সামনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইঞ্জিনিয়ার ঋষভ মণ্ডলের মৃত্যু আমাদের চোখের সামনে এক কঠিন সত্যিকে তুলে ধরল। কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানালেন, “কলকাতায় বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। কেউ বিদ্যুৎ চুরি করে নিজেদের যায় বাড়াবেন আর তার জন্য অন্যকে প্রাণ হারাতে হবে এটা হতে পারে না।” ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে অনুরোধ করছি, যারা বিদ্যুৎ চুরি করছে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিন। সিইএসসি-র সঙ্গে যৌথভাবে অবিলম্বে এই বিদ্যুৎ চুরি ঠেকাতে টেকনিক্যাল টিম গড়ে এটার সমাধান করতে হবে। এর আগে খিদিরপুরে হয়েছে এমন ঘটনা। কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে অনুরোধ করছি বিষয়টি দেখতে।”

এদিকে রাজ্যের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি সদ্য দফতরের দায়িত্ব নিয়েছি। কলকাতার বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব সিইএসসি-র ওপর। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানতে হবে।”

তবে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বুঝিয়ে দিলেন,, কলকাতার ফুটপাথে যে দোকান চলে তাদের প্রায় সবাই বিদ্যুৎ চুরি করেন চালায়। এই অভিযোগ এর আগেও করা হয়েছে বিভিন্ন মহলের তরফে। তবে এবার রাজভবনের সামনে ঋষভ মণ্ডলের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারানোর পর সরকাররের তরফে কলকাতায় লাগামছাড়া ভাবে বিদ্যুত চুরির কথা মেনে নিলেন ফিরহাদ হামিক।

এদিকে ফিরহাদ হাকিমের এই মন্তব্যের পর এখন প্রশ্ন বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তাঁরা বলছেন, ফিরহাদ হাকিম কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। তিনি কলকাতার ফুটপাথে যে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা ঘটে। ফুটপাথের বিভিন্ন দোকান যে বিদ্যুতের বাতিস্তম্ভ থেকে বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যবসা করছেন সেটা আগেই জানতেন। তাহলে তিনি কেন ইটা বন্ধ করার জন্য টেকনিক্যাল টিম গঠন করলেন না? কেনও এই গাফিলতির জন্য একজন ইঞ্জিনিয়ারের কলকাতার রাজপথে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারাতে হল?

রাজভবনের সামনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ফরাক্কার বাসিন্দা ঋষভ মণ্ডলের পরিবারের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়াতে ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করতে চেয়েছে। যদিও সেই অর্থসাহায্য নিতে অস্বীকার করেছে ঋষভের পরিবার। বদলে দোষীদের শাস্তির দাবি করে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর করেছে তাঁরা। ইতিমধ্যে মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গড়ছে কলকাতা পুরসভা। জানা গিয়েছে, তাতে সিইএসসি এবং পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বন্টন বিভাগের আধিকারিকরা থাকতে পারেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.