প্যারিস: আগুনের গ্রাসে গির্জা। তবে কোনও সাধারণ গির্জা নয়। আগুনের কবলে পরেছে ফ্রান্সের রাজধানী শহর প্যারিসের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন গির্জা

প্যারিসে অবস্থিত ওই গির্জাটি নোতর দাম দ্যা প্যারি নামে পরিচিত। চতুর্দশ শতকে প্রতিষ্ঠিত হয় ওই গির্জা। প্রায় ১৭০ বছর ধরে নির্মাণ করা হয়েছিল গির্জাটি।

প্যারিস শহরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হচ্ছে ওই গির্জা। যেখানে সোমবার আগুন লাগে। তবে ঠিক কী কারণে এত গুরুত্বপূর্ন এলাকা আগুনের কবলে পরল তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগুনের তীব্রতার কারণে ভেঙে পরেছে গির্জার ছাদ। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক।

খুব স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্যরিস তথা সমগ্র ফ্রান্সের প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট এম্যানুয়েল ম্যাক্রন ইতিমধ্যেই যাবতীয় কর্মসূচী বাতিল করে দিয়েছেন। এদিনই তাঁর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজধানি শহরের প্রাচীন গির্জায় আগুন লাগার ঘটনার কারণে সেই পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে।

এই ক্যাথলিক গির্জাটি বর্তমানে প্যারিসের আর্চবিশপ বা মহাবিশপের অধীনে রয়েছে। গির্জাটি প্যারিস শহরের ৪র্থ আরোঁদিসমঁ বা ওয়ার্ডে, সেন নদীতে অবস্থিত ইল দ্য লা সিতে নামক দ্বীপের পূর্ব পাশে অবস্থিত। গির্জাটির পশ্চিমমুখী অংশটির সামনে রয়েছে উন্মুক্ত জঁ-পল চত্বর।

গগনস্পর্শী উচ্চতা ও নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর জন্য নোত্র্‌-দাম গির্জাটি পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এটি প্যারিস নগরী, ফ্রান্স, এমনকি সমগ্র ইউরোপের পর্যটকদের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় ক্যাথেড্রাল। প্রতি বছর ২ কোটি লোক এটি দেখতে আসে এবং প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ পর্যটক গির্জার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এ গির্জায় প্রবেশের জন্য পর্যটকদের কোনও অর্থ প্রদান করতে হয় না।

দীর্ঘকাল প্যারিসের সবচেয়ে উঁচু ভবন হিসেবে নোতর দাম গির্জা প্রসিদ্ধ ছিল। ১৮৩১ সালে এটি প্যারিসের সবচেয়ে উঁচু ভবন ছিল ভিক্তর উগোর উপন্যাস নোতর দাম পারি-তে ভবনটিকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। অভিষেককালে ফ্রান্সের রাজা ও সম্রাটদের এই গির্জাতেই শপথ পড়ানো হত। আধুনিক ফ্রান্সের অনেক রাষ্ট্রপতির যেমন শার্ল দ্য গল, জর্জ পোঁপিদু, ফ্রঁসোয়া মিতেরঁ প্রমুখের শেষকৃত্য এই গির্জাতেই অনুষ্ঠিত হয়।

বিশপ মোরিস দ্য সুলির উদ্যোগে ১১৭৩ খ্রিস্টাব্দে গির্জাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। শতকের মাঝামাঝি ১৩৪৫ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়। এ কারণে ভবনটির নির্মাণশৈলী সবজায়গায় অভিন্ন রূপ নয়। তবে প্রধানত এটি গোথিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত একটি ভবন। পরবর্তীতে ১৮৪৪ থেকে ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্থপতি ভিওলে-ল্য-দুকের অধীনে ক্যাথেড্রালটিকে পুনরুদ্ধার ও সংস্কার করা হয়। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে আড়ম্বরের সাথে ভবনটির ৮৫০তম জন্মদিন পালন করা হয়।