স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগণার বরানগর থানার ডানলপ মোড় এবং বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় প্রায় শতাধিক ঝুপড়ি বাড়ি। আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। এছাড়াও ঘটনাস্থলে যান বরানগরের স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী তাপস রায়, উত্তর ২৪ পরগণার জেলা শাসক অন্তরা আচার্য সহ কামারহাটি এবং বরানগর পুরসভার দুই চেয়ারম্যান গোপাল সাহা এবং অপর্ণা মৌলিক৷

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দমকল মন্ত্রী বলেন, ‘‘এখানে ১৫০ ঝুপড়িতে স্থানীয় মানুষ বসবাস করে। দুপুরে আকস্মিক আগুন লাগে। ঝুপড়িগুলিতে মূলত দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন বিশালাকার রূপ নেয়। যদিও দমকলকর্মীরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।’’

এদিকে আগুন লাগার কারণে দমদম ডানকুনি শাখার রেল লাইনের ওভারহেডের তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ওই লাইনে প্রায় ৪৫ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। রেল কর্মীরা এসে ওভারহেডের তার মেরামতি করার পর দুপুর দেড়টা থেকে ওই লাইনে ফের ট্রেন চলাচল শুরু হয়। দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর না থাকলেও ঝুপড়ি বাসীদের অস্থায়ী বাড়িগুলি ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেন ঘর পোড়া স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাদের সব রকম সাহায্য করা হবে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টা নাগাদ আগুন লাগে ওই ঝুপড়িতে। স্থানীয় বাসিন্দারা হঠাৎই একটি ঝুপড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেন। এরপর অন্যান্য ঝুপড়ি থেকে সকলে বাইরে বেরিয়ে আসেন। মুহূর্তের মধ্যে অন্যান্য ঝুপড়িতে দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা প্রথমে নিজেরাই আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগায়। এরপরই খবর দেওয়া হয় দমকলে। প্রথমে দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

তবে আগুন বড় আকার নিলে ঘটনাস্থলে আসে দমকলের আরও পাঁচটি ইঞ্জিন। মোট সাতটি ইঞ্জিন তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে৷ কিন্তু ততক্ষণে ভস্মীভূত হয়ে যায় শতাধিক ঝুপড়ি। তবে কিসের থেকে এতবড় আগুন লাগল তার সঠিক কারণ বলতে পারেনি দমকলকর্মীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনে বরানগর থানার পুলিশ।