স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বশীভূত হয়ে গেল গোটা একটা পাটের গুদাম৷ বৃহস্পতিবার সকালে চোখ খুলতেই এমন ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইল দিনহাটা স্টেশন সংলগ্ন এলাকা৷ ওই এলাকারই একটি কারখানায় আগুন লাগে৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন ভোর পাঁচটা নাগাদ ওই এলাকা থেকে গলগল করে ধোঁয়া বেরোতে থাকে৷ একটা সময় গোটা এলাকা কালো হয়ে যায়৷ ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকাবাসীরা৷ তড়িঘড়ি দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখেন৷ দমকলের চারটি ইঞ্জিনের সহায়তায় প্রায় কয়েক ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে৷

কারখানার কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, আগুনে পুড়ে যাওয়া সামগ্রীর ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক লক্ষ টাকার কাছাকাছি। তবে ঠিক কি কারনে এই আগুন লাগে তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ এই প্রসঙ্গে দমকল কর্মীদের প্রাথমিক ধারণা বিদ্যুতের তার থেকেই এই আগুন লেগেছে৷ কারখানায় ভরতি পাট থাকায় আগুন নিমেষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়৷

উল্লেখ্য, বুধবার মেদিনীপুরের একটি বাজি কারখানাতেও বিধ্বংসী আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়৷ এমনকি সেই আগুন পাশে থাকা একটি মুদি দোকানেও ছড়িয়ে পড়ে৷ একের পর এক ওই কারখানার ভিতর থেকে লাগাতার বোম ফাটার আওয়াজ হতে থাকে। ফলে শুধু আতঙ্ক ছড়িয়েছে তা কেবল নয়৷ ভিতরে মজুত থাকা প্রচুর পরিমানে বোম ফেটে যাওয়ায় পাকা বাড়িটিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হুগলির প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল৷ মূলত কারকানার গুদাম ঘরে শর্ট সার্কিটের জেরে ওি আগুন লেগেছিল বলে দমকল কর্মীরা দাবি করেছিলেন৷ দাহ্য পদার্থ প্রচুর পরিমাণে মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে দমকলের ২টি ইঞ্জিন আসে। পরে আরও ২টি ইঞ্জিন আসে। মোট চারটি ইঞ্জিনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে৷ ঘটনার সময় ওই গুদামে যারা কাজ করছিলেন তারা সবাই বাইরে বেরিয়ে আসেন।

এই প্রসঙ্গ থেকেই একবার অতীতে ফিরলে দেখা যাবে শহরেও এমন ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রয়েছে৷ কয়েক মাস আগেই বিধ্বংসী আগুনের লেলিহান শিখা ছেয়ে গিয়েছিল আর্মেনিয়াম ঘাট এলাকায়৷ অন্যদিকে তার ঠিক কয়েকদিন বাদেই ফের শহরের বাইপাসের ধারে একটি ঝুপড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়৷