স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: সাত সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল আস্ত একটা বাজার৷ শুক্রবার সকাল ছ’টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে কোচবিহারের পুন্ডিবাড়ি বাজারে৷ ওই বাজারে প্রায় ৪০টি দোকান পুড়ে গিয়েছে৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালেই আগুন দেখতে পান স্থানীয় মানুষ৷ তাঁরাই প্রথম আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন৷ পরে খবর দেওয়া হয় দমকলকে৷ এর পর কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, ফালাকাটা থেকে দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।

আরও পড়ুন: ভেষজ আবির তৈরির কাজে এগিয়ে এলেন মহিলারা

তবে এই প্রথম নয়৷ এর আগেও ওই বাজারে আগুন লেগেছে৷ তাও খুব বেশিদিন আগে নয়৷ গত ২২ জানুয়ারি একই ভাবে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল বাজারের প্রায় ৪০টি দোকান৷ সেই ক্ষতি এখনও পূরণ হয়নি ব্যবসায়ীদের৷ তাঁরা ধীরে ধীরে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন৷ স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছিল বাজার৷ তার মধ্যেই আবার নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের জেরে ব্যবসায়ীরা কার্যত ভেঙে পড়েছেন৷

এদিন ওই বাজার পরিদর্শনে যান উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ৷ তিনি ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগের আগুনের পর ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের স্টল নির্মাণের জন্য পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর। এবারেও সেই রকম কিছু করা যায় কি না সেই নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: অনুগামীদের নিয়ে প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতার তৃণমূলে যোগ

এদিন পুন্ডিবাড়ি বাজারের পরিকাঠামো গত সমস্যার কথা তুলে ধরেন ব্যাবসায়ীরা। রবিবাবু বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে৷ প্রয়োজনে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা যায় কি না, তা তিনি আলোচনা করা হবে৷’’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ঝড়বৃষ্টির জেরে কোচবিহারের বিস্তীর্ণ অংশে বিদ্যুৎবিহীন ছিল৷ একই পরিস্থিতি ছিল পুণ্ডিবাড়িতেও৷ সকালের দিকে ফের বিদ্যুৎ সংযোগ আসে৷ দমকলের অনুমান সেই সময় শটসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে৷ তবে কীভাবে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখছে দমকল৷

আরও পড়ুন: ডেলিভারিতে দেরি হওয়ায় ছুরিবিদ্ধ কর্মচারী

এদিকে আগুন লাগার পিছনে অন্য কারণ থাকতে পারে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ৷ কারণ, দু’ মাসের মধ্যে পরপর দু’বার আগুন লাগল ওই বাজারে৷