তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বসন্তের পাতাঝরা মরশুমে বাঁকুড়ার জঙ্গলে আগুন লাগানোর চির চেনা ছবিটা আবারও ফিরতে শুরু করেছে৷ বনদফতরের ধারাবাহিক সচেতনতামূলক প্রচার ও নজরদারি সত্ত্বেও যে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও সচেতনতা তৈরি হয়নি তার প্রমাণ মিলতে শুরু করেছে। জেলার উত্তরের সোনামুখী, জয়পুর থেকে দক্ষিণের জঙ্গল মহল। সর্বত্রই অবাধে কম বেশি জঙ্গলে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে চলেছে।

পাঞ্চেত বনবিভাগের তালডাংরা বনাঞ্চলের ফকিরডাঙ্গা সেতু সংলগ্ন জঙ্গলে দেখা গেল দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে৷ আর এই অমানবিক ঘটনা যারা ঘটিয়েছেন, তাদের কারোরই দেখা নেই এলাকায়। প্রতিবছর ঠিক এই সময়ে ধারাবাহিকভাবে ঘটা এই ঘটনায় বনদফতর ও সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘বনরক্ষা কমিটি’গুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আসনা বনাঞ্চলের বিট অফিসার গণেশ কুম্ভকার৷ তিনি নিজেই জঙ্গলে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগিয়েছেন। এমন ছবিও ধরা পড়লো আমাদের ক্যামেরায়।

জঙ্গলে প্রতিবছর এভাবে আগুন লাগানোর ঘটনার পিছনে অনেক সময় কাঠ চোরাকারবারিদের ভূমিকা থাকে। মাত্র কয়েক জনের লোভের ফলে এভাবে আগুন লাগানোর ঘটনায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়৷ জীব বৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে৷ নষ্ট হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র৷ জঙ্গলে বসবাসকারী নিরীহ জীবজন্তু, পশু-পাখি, সাপ-সহ অন্যান্য প্রাণীর জীবন সংশয় এমনকি মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে৷ এছাড়াও আগুনে পুড়ে কিংবা ঝলসে নষ্ট হচ্ছে প্রকৃতির অপরূপ দান বিভিন্ন ধরনের গাছ গাছালি৷

পরিবেশ দূষণের ঘটনাতো ঘটছেই৷ এমনকি জীবন বা সম্পত্তিহানির ঘটনাও ঘটতে পারে। এছাড়াও গ্রীষ্মের শুরুতে এই পাতাঝরার মরশুমে গ্রামীণ এলাকার অসংখ্য প্রান্তিক মানুষ সারা বছরের জ্বালানি হিসেবে শুকনো শালপাতা সংগ্রহ করেন। এমনকি অনেকে এই সময় গৃহস্থকে এই শাল পাতা বিক্রি করে দু’পয়সা বাড়তি রোজগারের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু এভাবে কেউ বা কারা জঙ্গলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ফলে সে গুড়ে বালি। একই সঙ্গে এই ঝরা পাতা বর্ষায় বৃষ্টির জলে পচে একমাত্র এই জঙ্গল মহলেই এক ধরনের বিশেষ ছাতু ভাদ্র-আশ্বিন মাসে পাওয়া যেত। শুধুমাত্র জঙ্গলে আগুন লাগানোর কারণেই সেই সুস্বাদু ছাতু আর তেমন পাওয়া যায়না বলে মনে করা হচ্ছে। ধারাবাহিক এই আগুন লাগানোর ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয়রাও।

ফকিরডাঙ্গা এলাকার রঞ্জু বাউরী বলেন, এইভাবে আগুন লাগানোর ফলে জঙ্গলের গাছ পালার ক্ষতি তো হচ্ছেই। একই সঙ্গে এই জঙ্গলে থাকা বেশ কিছু ময়ূরের প্রাণসংশয় দেখা দিয়েছে বলে তার দাবি। এছাড়াও এভাবে আগুন লাগানোর ফলে জঙ্গলে বসবাসকারী সাপগুলিও লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এই ঘটনায় পরিবেশবিদরাও যথেষ্ট আতঙ্কিত। পরিবেশবিদ দূহিন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমাদের জেলায় যে জঙ্গল গুলি রয়েছে সব কটিই জৈব বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এভাবে আগুন লাগানোর ফলে জঙ্গলে বসবাসকারী জীবজন্তুদের বস্তুতান্ত্রিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও সরকারি উদ্যোগে বনভূমি বৃদ্ধির যে চেষ্টা রয়েছে, সে কাজটাও অনেকাংশে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই সব অবাঞ্ছিত ঘটনা বন্ধে বনদফতরকে সদা সতর্ক থাকা ও জনসচেতনতা তৈরির উপর জোর দিয়েছেন।’’

যদিও তালডাংরার ফকিরডাঙ্গা সেতু সংলগ্ন জঙ্গলে আগুন লাগার ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় আসনা বনাঞ্চলের বিট অফিসার গণেশ কুম্ভকার। এই ঘটনায় বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে স্বীকার করে বলেন, জঙ্গলে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে জঙ্গলে আগুন নেভানোর কাজে একটি বায়ুচালিত যন্ত্র দেওয়া হয়েছে। যার সাহায্যে সহজেই আগুন নেভানোর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে এই ধরণের বেআইনি কাজ বন্ধে তারই সদা সতর্ক আছেন বলে তিনি জানান।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.