সোয়েতা ভট্টাচার্য,কলকাতা: শহরের অগ্নিকাণ্ডগুলি থেকে শিক্ষা নিচ্ছে তিলোত্তমা। স্টিফেন কোর্টের অগ্নিকাণ্ড চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছিল অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থায় শহরের বহুতলগুলির উদাসীনতা ও গাফিলতি। তবে আসতে আসতে শহরে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নিয়ে সচেতনতা ছড়াচ্ছে বলে জানাচ্ছেন দমকল বিভাগের আধিকারিকেরা। এই বিষয় উদাহরণ হয়ে উঠল সোমবারের এপিজে বিল্ডিং এর অগ্নিকাণ্ড।

এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল এই বহুতলটিতে। দমকল আধিকারিকদের কথায় সোমবারের অগ্নিকাণ্ড শহরের অন্য বহুতলগুলিকে দেখাল কিভাবে বহুতলগুলিতে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা থাকা উচিত। এপিজের সুরেন্দ্র মুখপাত্র বলেন,”কমার্শিয়াল বিল্ডিংয়ে রোবস্ট ফায়ার সিস্টেম রয়েছে। এই ব্যবস্থা এমন বিপদজ্জনক পরিস্থিতির কথা ভেবেই করা হয়েছে।’’ এপিজের ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য বলেন, “আমরা দু মাস অন্তর আগুনের মক ড্রিলিং করে থাকি। সবাইকে জানানো আছে ড্রিলিংয়ে পাঁচবার অ্যালার্ম বাজে৷ পাঁচবারের বেশি অ্যলার্ম বাজলেই বুঝতে হবে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আজও ঠিক এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিনশো লোক বাইরে বেড়িয়ে আসে। তাই বড়সড় কোনও ঘটনা ঘটেনি।”

আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে দমকলকে খবর দেওয়া হয়। দশ মিনিটের মধ্যে দমকল ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়। দশটি ইঞ্জিনকে কাজে লাগিয়ে আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এপিজে বিল্ডিং এর অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার প্রশংসা করে ডিজি দমকল জগমোহন বলেন, ‘‘এই বিল্ডিংয়ে যথাযথ অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ছিল। এখানে আসতে আমরা দেখি বহুতলটির স্প্রিলিং সিস্টেম ও পাম্পিং সিস্টেম খুব ভাল করে কাজ করেছে। তাদের এই ব্যবস্থা থাকার ফলে খুবই দ্রুততার সঙ্গে আমাদের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে পেরেছে। এই ভাবেই প্রতিটি বহুতলে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা থাকা উচিত”।

দমকল সূত্রে জানা যায়, সোমবার এই বহুতলের সার্ভার রুমে আগুন লাগে। যদি সময়মতো আগুন নেভানোর কাজ শুরু না যেত তাহলে আরও বড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারত৷ অন্যান্য তলগুলিতে আগুন ছড়িয়ে যেতে পারত। দমকলের ডিজি বলেন, ‘‘আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তের পরই সেটা পরিস্কার হবে’’৷